মো: মেহেদী হাসান, মনপুরা (ভোলা): ভোলার মনপুরা উপজেলার বিচ্ছিন্ন দ্বীপ ইউনিয়ন কলাতলীর প্রায় ৪০ হাজার মানুষের যাতায়াতের প্রধান সড়ক—আবাসন বাজার থেকে কবির বাজার পর্যন্ত প্রায় ৮ কিলোমিটার দীর্ঘ এইচবিবি (হেরিং বোন বন্ড) সড়কটি জোয়ারের পানির তোড়ে ক্ষতবিক্ষত হয়ে পড়েছে। দীর্ঘদিন ধরে সড়কটির বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হওয়ায় চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছিল স্থানীয় বাসিন্দাদের।
বিশেষ করে গর্ভবতী নারী, শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থ রোগীদের নিয়ে জরুরি প্রয়োজনে যাতায়াত করা দুরূহ হয়ে পড়েছিল। প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার আশঙ্কায় দিন কাটছিল দ্বীপবাসীর।
এমন পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপের অপেক্ষা না করে মানবিক উদ্যোগে এগিয়ে এসেছেন মনপুরা উপজেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি ও কলাতলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মো. জোবায়ের হাসান রাজিব চৌধুরী।
শুক্রবার নিজ অর্থায়নে তিনি সড়কটির ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন অংশে জরুরি মেরামতের কাজ শুরু করেন। তার এই ব্যক্তিগত উদ্যোগে সড়কটির কিছু অংশ চলাচলের উপযোগী হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা মিজান বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে এই সড়কটি নিয়ে আমরা চরম দুর্ভোগে ছিলাম। গর্ভবতী নারী, শিশু ও বয়স্কদের যাতায়াতে পোহাতে হতো সীমাহীন কষ্ট। রাজিব চৌধুরী নিজ উদ্যোগে সড়কটি মেরামত করায় আমাদের কষ্ট কিছুটা লাঘব হয়েছে।”
উদ্যোগের বিষয়ে মো. জোবায়ের হাসান রাজিব চৌধুরী বলেন, “কলাতলী দ্বীপের মানুষের দৈনন্দিন কষ্টের বিষয়টি আমি খুব কাছ থেকে উপলব্ধি করেছি। এই সড়কটি তাদের যাতায়াতের একমাত্র ভরসা। মানুষের চরম দুর্ভোগের কথা চিন্তা করেই নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী মেরামতের কাজ হাতে নিয়েছি। এখানে কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নেই, সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানোই আমার মূল লক্ষ্য। তবে দ্বীপবাসীর স্থায়ী দুর্ভোগ নিরসনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত স্থায়ী ও টেকসই পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।”
এদিকে স্থানীয়দের দাবি, ব্যক্তিগত উদ্যোগে সাময়িকভাবে সড়কটি সংস্কার করা হলেও এর স্থায়ী সমাধান অত্যন্ত জরুরি। জোয়ারের পানির চাপ ও ভৌগোলিক অবস্থান বিবেচনা করে কার্যকর পরিকল্পনার মাধ্যমে সড়কটি পুনর্নির্মাণ করা হলে তবেই দীর্ঘমেয়াদী ভোগান্তি থেকে মুক্তি পাবেন কলাতলী দ্বীপের হাজারো মানুষ।
মন্তব্য করুন