লালমোহন (ভোলা) প্রতিনিধি: ভোলার লালমোহনে বকেয়া টাকা পরিশোধ না করায় দুইটি মহিষ ও একটি বাছুর নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে তিন ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ন্যায়বিচার ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে লালমোহন থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন মো. আনোয়ার হোসেন রাড়ি নামে এক মহিষ ব্যবসায়ী।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্তরা হলেন—মো. রফিকুল ইসলাম নছু (৫০), মো. রাকিব নছু (২৬) ও মো. পলাশ বেপারী (৪৫)। অভিযোগপত্রে তাঁদের লালমোহন ও পটুয়াখালীর বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
লিখিত অভিযোগে মো. আনোয়ার হোসেন রাড়ি জানান, তিনি মহিষের ব্যবসা করেন। গত ১৪ সেপ্টেম্বর পটুয়াখালীর কালাইয়া হাট থেকে অভিযুক্তদের কাছ থেকে দুইটি মহিষ ক্রয় করেন। মহিষ দুটির মোট মূল্য নির্ধারণ করা হয় ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা। এর মধ্যে তিনি ১ লাখ ১০ হাজার টাকা পরিশোধ করেন। বাকি ৭০ হাজার টাকা পরবর্তীতে পরিশোধ করার কথা ছিল।
অভিযোগকারীর দাবি, নির্ধারিত সময়ে বকেয়া টাকা পরিশোধ না করায় গত ১৯ সেপ্টেম্বর অভিযুক্তরা তাঁর বাড়ির কাছে এসে জোরপূর্বক দুইটি মহিষ নিয়ে যান। এ সময় মহিষ দুটির সঙ্গে থাকা একটি বাছুরও নিয়ে যাওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, মহিষের সঙ্গে থাকা বাছুরটি অসুস্থ হয়ে পড়েছে। এতে মহিষ ও বাছুরের ক্ষতিসহ মোট ২ লাখ ২৩ হাজার টাকা আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন আনোয়ার হোসেন। বাছুরের বাজারমূল্য এবং মায়ের দুধ থেকে বঞ্চিত হওয়ার সম্ভাব্য ক্ষতির বিষয়টিও তিনি অভিযোগপত্রে উল্লেখ করেছেন।
আনোয়ার হোসেন রাড়ি বলেন, অভিযুক্তদের এমন কর্মকাণ্ডে তিনি আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তিনি লালমোহন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে আবেদন করেছেন।
অভিযুক্তদের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোন বন্ধ থাকায় তাঁদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে লালমোহন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নজরুল ইসলাম বলেন, “ঘটনা সংক্রান্ত একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
মন্তব্য করুন