মো. নোমান, শশিভূষণ: দীর্ঘ ১০ বছর বিদেশে কাটিয়েছেন। পরিবারকে সুখে রাখার স্বপ্ন ছিল। কিন্তু বিদেশে সেই স্বপ্ন পূরণ হয়নি। তাই দেশে ফিরে জীবিকার নতুন পথ খুঁজতে ধারদেনা করে প্রায় ১৫ লাখ টাকা ব্যয়ে গড়ে তোলেন ১০টি মাছের খামার এবং একটি সবজি খামার। দিনরাত পরিশ্রমে যখন মাছ ও সবজি বিক্রির উপযোগী হয়ে উঠেছিল, ঠিক তখনই প্রকৃতির নির্মম আঘাতে মুহূর্তেই ভেঙে যায় সব স্বপ্ন।
ভোলার শশীভূষণ থানার জাহানপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কৃষক রফিক সৈয়ালের খামার টানা অতিবৃষ্টিতে পানির নিচে তলিয়ে যায়। খামারের বাঁধ ভেঙে সব মাছ বেরিয়ে যায়। পানিতে ডুবে নষ্ট হতে শুরু করেছে সবজির ক্ষেতও। এক রাতেই কয়েক বছরের স্বপ্ন আর লাখ লাখ টাকার বিনিয়োগ হারিয়ে এখন দিশেহারা এই কৃষক।
রফিক সৈয়াল জানান, বিদেশ থেকে ফিরে সংসারের হাল ধরতে কৃষিকাজকেই বেছে নিয়েছিলেন। আত্মীয়-স্বজন ও বিভিন্ন জায়গা থেকে ঋণ নিয়ে খামার তৈরি করেন। কিন্তু অতিবৃষ্টির কারণে এখন তিনি সবকিছু হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন।
তিনি বলেন, "আমি প্রায় ১৫ লাখ টাকা খরচ করে ১০টি মাছের খামার আর সবজির খামার করেছি। সবকিছু বিক্রির জন্য প্রস্তুত ছিল। কিন্তু এক রাতের বৃষ্টিতে সব মাছ চলে গেছে, সবজিও নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। আমার তিনটি মেয়ে, কোনো ছেলে নেই। এখন ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে কী করব বুঝতে পারছি না।"
স্থানীয়দের ভাষ্য, রফিক সৈয়াল একজন পরিশ্রমী কৃষক। নিজের ভাগ্য বদলাতে দীর্ঘদিনের সঞ্চয় ও ঋণের টাকা বিনিয়োগ করেছিলেন। কিন্তু প্রাকৃতিক দুর্যোগে তার সেই চেষ্টা বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে।
এদিকে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক রফিক সৈয়াল সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর এবং বিত্তবানদের সহযোগিতা কামনা করেছেন। স্থানীয়দেরও দাবি, দ্রুত আর্থিক সহায়তা ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হলে আবারও নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ পাবেন তিনি।
মন্তব্য করুন