মো. মেহেদী হাসান, মনপুরা : ভোলার মনপুরায় টানা আট দিনের ভারী বৃষ্টিতে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় চলতি মৌসুমের আমন চাষাবাদ মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় তিন থেকে চার ফুট পানি জমে প্রায় ৫ হাজার একর আমন আবাদি জমি তলিয়ে গেছে। এতে কৃষকদের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
রোববার (১২ জুলাই) উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, কোথাও তিন ফুট, কোথাও চার ফুট পানি জমে রয়েছে। পানির নিচে তলিয়ে আছে বিস্তীর্ণ ফসলি জমি, আমনের বীজতলা এবং বহু বসতবাড়ি। অনেক কৃষকের বীজতলা নষ্ট হয়ে যাওয়ায় নতুন করে চাষাবাদ নিয়ে দুশ্চিন্তা দেখা দিয়েছে।
উপজেলার হাজীরহাট ইউনিয়নের চর ফৈজউদ্দিন গ্রামের কৃষক লোকমান হোসেন বলেন, “গত প্রায় আট দিন ধরে টানা বৃষ্টির কারণে আমাদের আমন ধানের জমি পানির নিচে রয়েছে। আমি ১৯.৫০ শতাংশ জমি ২০ হাজার টাকা নগদে নিয়েছি। বীজতলায় ধানের বীজ বপন করেছিলাম। কিন্তু পানি নিষ্কাশনের খালগুলো দখল হয়ে থাকায় পানি নামছে না। ফলে সবকিছু নষ্ট হয়ে গেছে। এবার ধান ফলাতে না পারলে আমরা পথে বসে যাব।”
একই গ্রামের আরেক কৃষক বলেন, “ধারদেনা করে তিন কানি জমি ৭০ হাজার টাকা দিয়ে নিয়েছি। বীজ বপনের পরদিন থেকেই একটানা বৃষ্টি শুরু হয়। এখন সব বীজ নষ্ট হয়ে গেছে। নতুন করে বীজ কিনে চারা তৈরির সামর্থ্যও নেই।”
স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে পানি নিষ্কাশনের খাল অবৈধ দখলে থাকায় বৃষ্টির পানি দ্রুত নামতে পারছে না। ফলে প্রতিবছরের মতো এবারও জলাবদ্ধতায় বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছেন তারা। দ্রুত খালগুলো দখলমুক্ত করে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন কৃষকরা।
এ বিষয়ে মনপুরা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আহসান তাওহীদ বলেন, “উপজেলাজুড়ে টানা বৃষ্টির কারণে বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। আমরা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি। পানি দ্রুত নেমে গেলে কৃষকদের প্রয়োজনীয় কারিগরি পরামর্শ ও সহযোগিতা দেওয়া হবে। পাশাপাশি ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণের কাজ চলছে।”
মন্তব্য করুন