অভিযোগকারী মো. রাকিব (২২) নোয়াখালীর সদর উপজেলার মান্দারতলী গ্রামের বাসিন্দা। বুধবার রাতে তিনি সুধারাম মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ নিয়ে যান। তবে পুলিশ জানিয়েছে, এ ধরনের বিষয়ে স্থানীয় থানার আইনগত কোনো এখতিয়ার নেই।
অভিযোগে রাকিব উল্লেখ করেন, গত মঙ্গলবার রাতে স্থানীয় করমুল্যা বাজারে বড় পর্দায় আর্জেন্টিনা ও মিসরের মধ্যকার বিশ্বকাপ ফুটবল ম্যাচ দেখার সময় তিনি লক্ষ্য করেন, ম্যাচ রেফারি ইচ্ছাকৃতভাবে একটি দলকে সুবিধা দিয়েছেন। এর ফলে তাঁর প্রিয় দল মিসর পরাজিত হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
তিনি অভিযোগে ফিফার সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো, ম্যাচ রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেতেক্সিয়েরসহ ১৫ থেকে ২০ জনকে অভিযুক্ত হিসেবে উল্লেখ করেন। তাঁর অভিযোগ, অন্যায্য পেনাল্টি প্রদান, বৈধ গোল বাতিল এবং মিসরের খেলোয়াড় ও কোচের বিরুদ্ধে পক্ষপাতমূলক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে ম্যাচের ফলাফল প্রভাবিত করা হয়েছে।
রাকিবের দাবি, এসব সিদ্ধান্তে তিনি ও মিসরের সমর্থকেরা মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তাই তিনি ফিফার কাছ থেকে পাঁচ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আইনে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
সুধারাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম বলেন, অভিযোগকারী থানায় লিখিত অভিযোগ নিয়ে এসেছিলেন। তবে এ ধরনের বিষয়ে স্থানীয় থানার কোনো আইনগত এখতিয়ার নেই। বিষয়টি তাঁকে বুঝিয়ে বলা হয়েছে এবং প্রয়োজন হলে আন্তর্জাতিক আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে বৃহস্পতিবার সকালে অভিযোগকারী মো. রাকিব জানান, ম্যাচটি দেখার পর তিনি ও তাঁর অভিযোগের সাক্ষীরা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। তিনি এ ঘটনার বিচার দাবি করে বলেন, পুলিশ অভিযোগটি মামলা হিসেবে গ্রহণ না করায় তিনি আদালতের শরণাপন্ন হবেন। প্রয়োজনে মানববন্ধনসহ অন্যান্য কর্মসূচিও পালন করবেন।