সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নবম জাতীয় পে স্কেলের প্রস্তাব অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা। সোমবারের মন্ত্রিসভা বৈঠকে নতুন বেতন কাঠামো অনুমোদনের পর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। নতুন কাঠামোর বিভিন্ন ধাপ কার্যকর হলে আগামী কয়েক বছরে প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকদের মূল বেতন এবং মোট বেতন-ভাতায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসতে পারে।
নতুন পে স্কেলে সরকারি চাকরির ২০টি গ্রেডই রাখা হয়েছে। তবে প্রতিটি গ্রেডের মূল বেতন পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রথম গ্রেডের মূল বেতন হবে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা। আর ২০তম গ্রেডের প্রারম্ভিক মূল বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে ২০ হাজার টাকা।
সহকারী শিক্ষকদের বেতন কত হতে পারে
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা ১৩তম গ্রেডে বেতন পান। বর্তমান কাঠামোয় এই গ্রেডের প্রারম্ভিক মূল বেতন ১১ হাজার টাকা। নতুন কাঠামোয় তা বেড়ে ২৪ হাজার টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
চাকরির মেয়াদ অনুযায়ী ইনক্রিমেন্ট যুক্ত হলে ১৩তম গ্রেডের সর্বোচ্চ মূল বেতন ৫৮ হাজার টাকা পর্যন্ত যেতে পারে।
নতুন বেতন কাঠামোর ধাপগুলো পুরোপুরি কার্যকর হলে ২০২৮ সালে নতুন নিয়োগ পাওয়া একজন সহকারী শিক্ষকের মোট বেতন-ভাতা প্রায় ৪০ হাজার টাকা হতে পারে বলে প্রস্তাবিত হিসাব থেকে ধারণা করা হচ্ছে। তবে বর্তমানে কর্মরত শিক্ষকদের ক্ষেত্রে হিসাবটি আলাদা হবে। তাদের চাকরির মেয়াদ ও ইতিমধ্যে পাওয়া ইনক্রিমেন্ট বিবেচনায় মোট বেতন-ভাতা প্রায় ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত হতে পারে।
প্রধান শিক্ষকদের বেতন বাড়বে আরও
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকরা বর্তমানে ১০ম গ্রেডের আওতায় বেতন পান। এ গ্রেডের পুরোনো কাঠামোয় প্রারম্ভিক মূল বেতন ছিল ১৬ হাজার টাকা। নতুন প্রস্তাবে তা বাড়িয়ে ৩২ হাজার টাকা করার কথা বলা হয়েছে।
ইনক্রিমেন্টের মাধ্যমে ১০ম গ্রেডের সর্বোচ্চ মূল বেতন ৭৭ হাজার ৩০০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে।
প্রস্তাবিত কাঠামো অনুযায়ী, ধাপে ধাপে মূল বেতন বাড়ানোর হিসাবও রয়েছে। প্রথম ধাপে ১৬ হাজার টাকা থেকে ৫০ শতাংশ বাড়িয়ে ২৪ হাজার টাকা করা হবে। পরবর্তী ধাপে ৪ হাজার টাকা যোগ হয়ে তা ২৮ হাজারে পৌঁছাবে। তৃতীয় ধাপে আরও ৪ হাজার টাকা বাড়িয়ে মূল বেতন করা হবে ৩২ হাজার টাকা।
২০২৮ সালের জানুয়ারি থেকে বাড়িভাড়াসহ নতুন ভাতাগুলো কার্যকর হলে ১০ম গ্রেডে থাকা একজন প্রধান শিক্ষকের প্রারম্ভিক মোট বেতন-ভাতা ৫০ হাজার টাকার বেশি হতে পারে।
কর্মরত শিক্ষকদের হিসাব আলাদা
নতুন পে স্কেল কার্যকর হলেও নতুন নিয়োগ পাওয়া শিক্ষক আর বর্তমানে কর্মরত শিক্ষকের বেতন একই হবে না। পুরোনো শিক্ষকদের ক্ষেত্রে বর্তমান মূল বেতন, চাকরির মেয়াদ এবং প্রাপ্ত ইনক্রিমেন্টের সংখ্যা বিবেচনায় নিয়ে নতুন বেতন নির্ধারণ করা হবে।
প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পদে ৮০ শতাংশ নিয়োগ সহকারী শিক্ষকদের পদোন্নতির মাধ্যমে হয়। বাকি ২০ শতাংশ পদে সরাসরি নিয়োগ দেওয়া হয়। ফলে একই গ্রেডে থাকা প্রধান শিক্ষকদের মধ্যেও চাকরির অভিজ্ঞতা অনুযায়ী মূল বেতনে পার্থক্য থাকতে পারে।
নবম জাতীয় পে স্কেলের প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত হলেও শিক্ষকরা ঠিক কত টাকা বেতন ও ভাতা পাবেন, তার চূড়ান্ত হিসাব এখনো অপেক্ষমাণ। অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন জারি হলে বেতন বাস্তবায়নের ধাপ, বিভিন্ন ভাতা এবং অন্যান্য আর্থিক সুবিধার বিস্তারিত জানা যাবে।
মন্তব্য করুন