পটুয়াখালীর
রাঙ্গাবালী উপজেলার ছোটবাইশদিয়া বিজনেস ম্যানেজমেন্ট (বিএম) ইনস্টিটিউটে
এইচএসসি পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়ন নিয়ে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।
মূল্যায়নের দায়িত্বপ্রাপ্ত পরীক্ষকের পরিবর্তে কয়েকজন শিক্ষার্থীর হাতে
উত্তরপত্র দেখা যাওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে
বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।
সোমবার
(৩ আগস্ট) ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, একটি শ্রেণিকক্ষের বেঞ্চে বসে
চারজন শিক্ষার্থী একসঙ্গে বেশ কয়েকটি এইচএসসি উত্তরপত্র হাতে নিয়ে কাজ
করছেন। ভিডিওতে তাদের কলম দিয়ে খাতায় লিখতেও দেখা যায়। স্থানীয় একাধিক
সূত্র জানিয়েছে, ভিডিওতে থাকা শিক্ষার্থীরা ওই প্রতিষ্ঠানের দ্বাদশ শ্রেণির
শিক্ষার্থী।
খোঁজ
নিয়ে জানা গেছে, বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণ বিভাগ
(বিএমটি) শাখা থেকে গত ৪ জুলাই জারি করা একটি চিঠির মাধ্যমে বাংলা বিষয়ের
(বিষয় কোড-২১৮১১) মোট ৩৫০টি উত্তরপত্র প্রতিষ্ঠানটির বাংলা বিভাগের প্রভাষক
ও পরীক্ষক রিপনের কাছে মূল্যায়নের জন্য পাঠানো হয়। পরীক্ষক কোড-১৪০৫-এর
আওতায় পাঠানো এসব উত্তরপত্র আগামী ৬ আগস্টের মধ্যে বোর্ডে জমা দেয়ার
নির্দেশনা রয়েছে।
ভিডিও
ঘিরে অভিযোগ উঠেছে, দায়িত্বপ্রাপ্ত পরীক্ষক নিজে উত্তরপত্র মূল্যায়ন না
করে শিক্ষার্থীদের দিয়ে কাজ করিয়েছেন। যদিও এ অভিযোগ অস্বীকার করে ভিন্ন
ব্যাখ্যা দিয়েছে কলেজ কর্তৃপক্ষ।
প্রতিষ্ঠানটির
ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ শাহ মানজুর বলেন, উত্তরপত্র পরীক্ষক নিজেই মূল্যায়ন
করেছেন। তবে সময়ের স্বল্পতার কারণে উত্তরপত্রের মলাট পূরণের কাজে
শিক্ষার্থীদের সহায়তা নেয়া হয়েছে। এ সংক্রান্ত ভিডিও আমিও দেখেছি।
তবে
শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের মতে, বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের বিধি অনুযায়ী
উত্তরপত্র মূল্যায়ন, সংরক্ষণ ও সংশ্লিষ্ট সব কার্যক্রম দায়িত্বপ্রাপ্ত
পরীক্ষকের সরাসরি তত্ত্বাবধানে সম্পন্ন হওয়ার কথা। উত্তরপত্রের গোপনীয়তা
রক্ষায় অননুমোদিত কাউকে এ কাজে সম্পৃক্ত করার সুযোগ নেই।
স্থানীয়
অভিভাবকদের অভিযোগ, শিক্ষার্থীদের হাতে উত্তরপত্র তুলে দেয়া হলে পরীক্ষার
স্বচ্ছতা ও গোপনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। তাই বিষয়টির নিরপেক্ষ তদন্ত করে
প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
অভিযোগের
বিষয়ে বাংলা বিভাগের প্রভাষক ও পরীক্ষক রিপনের বক্তব্য জানতে একাধিকবার
যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
উপজেলা
মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের একাডেমিক সুপারভাইজার অনাদি কুমার বাহাদুর বলেন,
খাতাগুলো সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নয়, কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন অন্য
প্রতিষ্ঠানের। প্রাথমিকভাবে জেনেছি পরীক্ষকই খাতা মূল্যায়ন করেছেন।
শিক্ষার্থীরা হয়তো নিজেদের খাতা ভেবে উল্টে-পাল্টে দেখছিল। তারপরও বিষয়টি
খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
রাঙ্গাবালী
উপজেলার অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা গলাচিপা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা
(ইউএনও) আবুজর মো. ইজাজুল হক বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে আমি আগে অবগত ছিলাম না।
মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারের সঙ্গে কথা বলে ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয়
ব্যবস্থা নেয়া হবে।