ইব্রাহিম আকতার আকাশ: ভোলার সদর উপজেলার শিবপুর ইউনিয়নের মেঘনা নদীর তীর ধসে জিওব্যাগসহ নদীতে পড়ে নিখোঁজ হয়েছেন দুই বন্ধু। ঘটনার ২০ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও তাদের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। তীব্র স্রোতের কারণে বৃহস্পতিবার দুপুরের পর আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে উদ্ধার অভিযান। এতে নিখোঁজদের পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে উৎকণ্ঠা আরও বেড়েছে।
নিখোঁজ দুই বন্ধু হলেন—আমজাদ হোসেন (২৭) ও রাকিব আহমেদ (২২)। আমজাদ ভোলা পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মো. ইব্রাহিম মিয়ার ছেলে এবং বাংলাদেশ বর্ডার গার্ডের (বিজিবি) একজন সদস্য। রাকিব শিবপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাবুল হোসেনের ছেলে। স্বজনদের ভাষ্য, রাকিব সাঁতার জানতেন না।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার (৯ আগস্ট) সন্ধ্যায় পাঁচ বন্ধু শিবপুর ইউনিয়নের মেঘনা নদীর তীরে নদী সংরক্ষণের জিওব্যাগের ওপর বসে আড্ডা দিচ্ছিলেন। এ সময় হঠাৎ নদীর তীর ধসে জিওব্যাগসহ পাঁচজনই নদীতে পড়ে যান। পরে ফাহিম (২২), আব্দুল্লাহ (২৫) ও সাগর (২৫) সাঁতরে তীরে উঠতে সক্ষম হন। তবে আমজাদ ও রাকিব নিখোঁজ হন।
ঘটনার পর স্থানীয়দের পাশাপাশি ফায়ার সার্ভিস, কোস্টগার্ড ও নৌ-পুলিশের সদস্যরা উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেন। রাত পর্যন্ত অভিযান চালিয়েও নিখোঁজ দুই বন্ধুর সন্ধান পাওয়া যায়নি।
বৃহস্পতিবার সকালে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম নিয়ে আবারও উদ্ধার অভিযান শুরু করে। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত নদীর বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি চালানো হয়। তবে মেঘনায় তীব্র স্রোত থাকায় নদীর তলদেশে পৌঁছাতে বেগ পেতে হয় ডুবুরি দলকে। পরে দুপুরের পর আপাতত উদ্ধার অভিযান বন্ধ রাখা হয়।
ভোলা ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার খন্দকার মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, সকাল থেকে ফায়ার সার্ভিসের দক্ষ ডুবুরি দল উদ্ধার অভিযানে অংশ নেয়। তবে নদীতে তীব্র স্রোত থাকায় অভিযান পরিচালনা করতে বেগ পেতে হয়েছে। এ কারণে আপাতত উদ্ধার অভিযান বন্ধ রাখা হয়েছে। পরিস্থিতি অনুকূলে এলে পরবর্তীতে আবারও উদ্ধার তৎপরতা চালানো হবে।
এদিকে দুই বন্ধু নিখোঁজের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই ঘটনাস্থলে ভিড় করছেন স্বজন ও স্থানীয়রা। সন্তানদের ফিরে পাওয়ার আশায় নদীর তীরে অপেক্ষা করছেন পরিবারের সদস্যরা। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে মেঘনার তীর।
ছবি: নিখোঁজ হওয়া দুই বন্ধু রাকিব ও আমজাদ এবং উদ্ধারকারী টিম
মন্তব্য করুন