আজকের Channel Bhola সংবাদ
Channelbhola
প্রকাশ : Jul 29, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

বাড়িতে বাবার মরদেহ, অশ্রু মুছে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ



বাড়িতে বাবার মরদেহ। স্বজনরা শোকে স্তব্ধ, চলছে দাফনের প্রস্তুতি। এমন কঠিন বাস্তবতার মধ্যেও বাবার স্বপ্ন পূরণের অঙ্গীকারে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে যশোরের বেনাপোলের শিক্ষার্থী মাসুমা আক্তার (১৮)। পরীক্ষা শেষে বাড়ি ফিরে বাবার শেষকৃত্যে অংশ নেন তিনি।

বুধবার (২৯ জুলাই) সকালে বেনাপোল কলেজ কেন্দ্রের এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেন মাসুমা।

মাসুমা শার্শা উপজেলা কলেজের বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী। সকাল ১০টার আগে চোখের জল মুছতে মুছতে কেন্দ্রে প্রবেশ করেন তিনি। সহপাঠী ও দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকদের সহযোগিতায় পরীক্ষা দেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পরীক্ষা শেষে মাসুমা বাড়ি ফিরলে জোহরের পর গ্রামের মসজিদে বাবা আব্দুস সামাদের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় আত্মীয়স্বজন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, পাড়া প্রতিবেশী ও আশপাশের এলাকার কয়েক’শ মানুষ অংশ নেন। পরে তাদের পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

মাসুমার বাবা আব্দুস সামাদ (৬৫) বেনাপোলের মেসার্স তাজমহল ট্রান্সপোর্ট ও হাজী মুছা করিম অ্যান্ড সন্স-এর স্বত্বাধিকারী। তিনি একজন আমদানিকারক ছিলেন। বেনাপোলের নামাজগ্রামে তাদের বাড়ি।

মৃতের বড় ভাই আব্দুল গফুর জানান, মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সন্ধ্যার দিকে বাড়িতে স্ট্রোকজনিত কারণে অসুস্থ হয়ে পড়লে হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যান তিনি।

বেনাপোল কলেজের কেন্দ্রসচিব অধ্যক্ষ কামরুজ্জামান শান্তি বলেন, ‘মাসুমার বাবার মৃত্যুর বিষয়টি আমরা সকালেই জানতে পেরেছিলাম। সবার সঙ্গে বসে পরীক্ষা দিলে তার জন্য ভালো হবে ভেবে তার জন্য বিশেষ কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। আমরা চেয়েছিলাম সে সবার সঙ্গে স্বাভাবিকভাবেই পরীক্ষা দিক।

তিনি বলেন, মাসুমা এক হাতে রুমাল দিয়ে বারবার চোখ মুছছিলেন। আর অন্য হাতে পরীক্ষার খাতায় লিখেছেন। তবে একটায় পরীক্ষা শেষ হলেও মাসুমা ১২টা ৩০ মিনিটে খাতা জমা দিয়ে বাড়ি গেছে।

আবেগ আপ্লুত মাসুমা বলেন, ‘বাবা আমাকে অনেক ভালোবাসতেন। বাবা চাইতেন আমি যেন পড়ালেখা করে অনেক বড় হই। তাই এমন অবস্থায়ও আমি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছি। বাবার আত্মাকে আমি কষ্ট দিতে চাই না।’

শার্শা উপজেলা কলেজের অধ্যক্ষ হাসানুজ্জামান অনুপম বলেন, মাসুমা আমার কলেজের বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্রী। এবার এইচএসসি পরীক্ষার্থী। সে নিয়মিত কলেজে আসতো। পড়াশুনায় খুব ভালো। তার বাবার মৃত্যুর সংবাদ পেয়ে কলেজের অনেক মেয়েরা তাদের বাসায় সান্ত্বনা দিতে গিয়েছেন। তার পরীক্ষার জন্য আমরা সবাই সাধ্যমতো চেষ্টা করেছি। যাতে শোক কাটিয়ে পরীক্ষাটা যেন ভালোভাবে শেষ করতে পারে।

শার্শা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফজলে ওয়াহিদ বলেন, ‘বাবাকে হারানো যে কারও জন্য খুবই কষ্টদায়ক। তারপরও এইচএসসি পরীক্ষার্থী মাসুমা বাবা হারানোর কষ্ট নিয়ে পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন। আমরাও তার পরীক্ষার সময় যতটা সম্ভব পাশে থাকার চেষ্টা করেছি।’                                                                                                                


 

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

৩ দিনের সফরে আগামীকাল ভোলায় আসছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী পা

1

চর আইচা বিদ্যালয়ে জুলাই শহীদ স্মরণসভা আয়োজন নিয়ে প্রশ্ন

2

বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে বড় লাফ, বাড়ছে রুপার দামও

3

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে উদ্দেশ্য করে আমির হামজার হুমকি

4

দুপুরের মধ্যে ৮ জেলায় ঝড় ও বজ্রবৃষ্টির শঙ্কা

5

হজ শেষে দেশে ফিরেছেন ৬১ হাজার ৬৯৭ হাজি, সৌদিতে মৃত্যু ৫৪ বাং

6

বাড়িতে বাবার মরদেহ, অশ্রু মুছে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ

7

ডিসিকে ফোন দিলেই বলেন, ‘টেক্সট মি প্লিজ‎’

8

টানা ৪০ দিন জামাতে নামাজ, ৯ শিশু-কিশোর পেল সাইকেল

9

কোনো দলকে ভোট দিয়ে জান্নাতে যাওয়ার সুযোগ নেই: সেলিমা রহমান

10

দেশে হামে ভয়াবহ পরিস্থিতি: তিন মাসে ৬৭৭ শিশুর মৃত্যু, বিশেষজ

11

দুই কার্গো এলএনজি কিনবে সরকার, সাশ্রয় হবে ৩৭০ কোটি টাকা

12

চার ধাপে পে স্কেল বাস্তবায়নের ইঙ্গিত, শুরুতেই বাড়তে পারে ৩০

13

“লাইভে বিস্ফোরক অভিযোগ দেবলীনার, জবাবে আদালতের ওপর আস্থা প্র

14

হাসিনার বক্তব্য প্রচারে নিষেধাজ্ঞা আছে কিনা, জানালেন তথ্য উপ

15

ড্রিংকস করে অসুস্থ হয়ে পড়েন সেই তরুণী, অতঃপর

16

স্বামীর বিরুদ্ধে মিথ্যা যৌতুক মামলা করায় স্ত্রীর কারাদণ্ড

17

৯৬ বার পেছাল রিজার্ভ চুরির মামলার প্রতিবেদন

18

পাকিস্তানের জনপ্রিয় অভিনেত্রীর ভিডিও ফাঁস, উত্তাল নেটদুনিয়া

19

৯০০ পিস ইয়াবাসহ আর্জেন্টিনা সমর্থক তরুণ গ্রেপ্তার

20