এইচ এম নোমান, চরফ্যাশন: ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার দুলারহাট থানাধীন চরযমুনা ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে এক বিধবা নারী ও তার ছেলেকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বাবুল গংয়ের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় বাবুল ও তার স্ত্রীসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে দুলারহাট থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
ভুক্তভোগীরা হলেন, ওই ওয়ার্ডের বাসিন্দা বিবি হনুফা ও তার ছেলে জসিম।
জানা গেছে, ২০০৭ সাল থেকে ১৩৪ শতাংশ জমির মালিকানা ও দখল নিয়ে হনুফা বিবিদের সঙ্গে প্রতিবেশী বাবুল গংদের বিরোধ চলে আসছে। দীর্ঘদিন ধরে চলা এ বিরোধকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের মধ্যে একাধিকবার উত্তেজনা ও মারামারি ঘটনাও ঘটে। জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধের জেরে বিষয়টি বর্তমানে আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে। এ ঘটনায় আদালতে একটি মামলাও চলমান রয়েছে বলে জানা গেছে।
জসিমের অভিযোগ, সম্প্রতি ওই জমি নিয়ে বিরোধের জেরে বাবুলের নেতৃত্বে কয়েকজন তাদের ওপর হামলা চালান। এ সময় বাবুলের স্ত্রীসহ কয়েকজন নারী তার মা হনুফা বেগমকে টেনেহিঁচড়ে কাদার মধ্যে ফেলে মারধর করেন। মাকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে তাকেও লাঠিসোঁটা দিয়ে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
জসিম দাবি করেন, এ সময় নুরুল হক, মোস্তফা, ইসমাইল, রুহুল আমিন, আমির, মাসুদ ও ফারুকসহ কয়েকজন সেখানে উপস্থিত ছিলেন। অভিযুক্তদের পরিবারের কয়েকজন নারীও ঘটনাস্থলে ছিলেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
জসিম আরও জানান, জমি নিয়ে বিরোধের ঘটনায় এর আগেও ২০২২ সালে মামলা হয়েছিল। ওই মামলাটি সিআইডিতে তদন্তাধীন ছিল বলে দাবি করেন তিনি। পরে তারা বন্দোবস্তের মাধ্যমে ওই জমি পেয়েছেন বলেও জানান জসিম।
জসিম বলেন, “আমি একজন দিনমজুর ও অসহায় মানুষ। আমার মাকে প্রকাশ্যে মারধর করা হয়েছে। মাকে বাঁচাতে গেলে আমাকেও মারধর করা হয়। আমি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার চাই।”
স্থানীয়রা বলছেন, দীর্ঘদিনের এই জমি বিরোধের প্রকৃত বিষয়টি খতিয়ে দেখতে প্রয়োজন। কাগজপত্র যাচাই করে নিরপেক্ষ তদন্ত করা দরকার। একই সঙ্গে বিধবা নারী ও তার ছেলেকে মারধরের অভিযোগেরও সুষ্ঠু তদন্তের দাবী জানান তারা।
এঘটনায় অভিযুক্ত বাবুলের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে তিনি ফোন কেটে দেন। পরে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি আর ফোন রিসিভ করেননি। ফলে এ বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
দুলারহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইয়াসিন আলামিন বলেন, “জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে মা-ছেলেকে মারধরের অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
মন্তব্য করুন