চ্যানেল ভোলা: বর্তমানে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে টাকা পাঠানো বা বিল পরিশোধের মতো কাজগুলো আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে অসাবধানতা বা তাড়াহুড়োর কারণে অনেক সময় ভুল নম্বরে টাকা চলে যায়।
এমন পরিস্থিতিতে ঘাবড়ে না গিয়ে দ্রুত ও সঠিক পদক্ষেপ নিলে টাকা ফেরত পাওয়া সম্ভব।
নম্বরটিতে যদি বিকাশ অ্যাকাউন্ট খোলা না থাকে (নন-বিকাশ নম্বর)
ভুল করে এমন কোনো নম্বরে টাকা পাঠানো হলে, যেটি বিকাশে নিবন্ধিত নয়, তবে টাকা ফেরত পাওয়া তুলনামূলক সহজ। এর জন্য নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করতে হবে:
১. প্রথমে বিকাশ অ্যাপে প্রবেশ করে ‘সেন্ড মানি’ (Send Money) অপশনে যেতে হবে।
২. সেখানে সংশ্লিষ্ট লেনদেনের পাশে ‘নন-বিকাশ’ বা ‘ক্যানসেল’ (Cancel/বাতিল) অপশন দেখতে পাবেন।
৩. সেই অপশনে ক্লিক করে নিশ্চিত (হ্যাঁ) করলেই টাকাটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে আপনার অ্যাকাউন্টে ফেরত (অটো রিফান্ড) চলে আসবে। (নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বাতিল না করলেও অনেক ক্ষেত্রে এই টাকা স্বয়ংক্রিয়ভাবে অ্যাকাউন্টে ফিরে আসে)।
নম্বরটি যদি একটি সক্রিয় বিকাশ অ্যাকাউন্ট হয়
যদি টাকাটি এমন নম্বরে যায় যেখানে আগে থেকেই বিকাশ অ্যাকাউন্ট সচল রয়েছে, তবে অ্যাপ থেকে সরাসরি টাকা ফেরত আনা যায় না। এক্ষেত্রে প্রাপক টাকা তুলে ফেলার আগেই দ্রুত নিচের পদক্ষেপগুলো নিতে হবে:
১. হেল্পলাইনে যোগাযোগ: তৎক্ষণাৎ বিকাশের অফিশিয়াল হেল্পলাইন ১৬২৪৭ নম্বরে কল করে অথবা লাইভ চ্যাটের মাধ্যমে বিষয়টি জানাতে হবে। এছাড়া নিকটস্থ বিকাশ কাস্টমার কেয়ার সেন্টারেও সরাসরি যোগাযোগ করা যেতে পারে।
২. থানায় জিডি করা: নিকটস্থ থানায় গিয়ে দ্রুত একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করতে হবে। জিডিতে ভুল লেনদেনের ট্রানজেকশন আইডি, তারিখ, সময় ও টাকার পরিমাণ স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে।
৩. প্রমাণাদি জমা দেওয়া: তদন্ত ও পরবর্তী ব্যবস্থার জন্য বিকাশ কর্তৃপক্ষের কাছে প্রয়োজনীয় প্রমাণাদি (যেমন: জিডির কপি, জাতীয় পরিচয়পত্র, প্রেরক ও প্রাপকের নম্বর, টাকার পরিমাণ, তারিখ-সময় এবং সম্ভব হলে বিকাশ অ্যাপের লেনদেনের স্ক্রিনশট) জমা দিতে হবে।
৪. বিকাশ কর্তৃপক্ষের পদক্ষেপ: অভিযোগ পাওয়ার পর বিকাশ কর্তৃপক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে প্রাপকের সঙ্গে যোগাযোগ করে টাকা ফেরতের চেষ্টা করবে। যেহেতু বিকাশ সরাসরি কারও অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা কেটে নিতে পারে না, তাই এক্ষেত্রে প্রাপকের সম্মতির প্রয়োজন হয়।
৫. আইনি সহায়তা: প্রাপক যদি ভুল লেনদেনের বিষয়টি স্বীকার করে টাকা ফেরত দিতে রাজি না হন, তবে চূড়ান্ত পদক্ষেপ হিসেবে আইনি প্রক্রিয়ার বা সহায়তার আশ্রয় নিতে হবে।
প্রাপককে সরাসরি ফোন করা কি ঠিক?
ভুল নম্বরে টাকা যাওয়ার পর সঙ্গে সঙ্গে প্রাপককে ফোন করা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। কারণ বিষয়টি জানার পর প্রাপক দ্রুত টাকাটি তুলে ফেলতে পারেন বা অন্য কোনো অ্যাকাউন্টে সরিয়ে নিতে পারেন।
তাই সরাসরি প্রাপককে ফোন না করে আগে অফিশিয়ালভাবে বিকাশের কাছে অভিযোগ জানানোই সবচেয়ে নিরাপদ।
ভুল লেনদেন এড়াতে কিছু সতর্কবার্তা:
১. টাকা পাঠানোর আগে নম্বরটি অন্তত দুই থেকে তিনবার ভালোভাবে মিলিয়ে নিন।
২. ‘সেন্ড মানি’ করার সময় প্রাপকের নাম প্রদর্শিত হলে তা নিশ্চিত হয়ে তারপর পিন (PIN) নম্বর দিন।
৩. বড় অঙ্কের টাকা লেনদেনের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত সতর্ক থাকুন।
৪. নিজের ফোন ব্যবহার করে লেনদেন করার চেষ্টা করুন এবং অন্যের ফোন ব্যবহারের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করুন।
ভুল নম্বরে টাকা চলে গেলে আতঙ্কিত না হয়ে সচেতনতা ও দ্রুত সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণ করাই টাকা ফেরত পাওয়ার সবচেয়ে বড় উপায়।
মন্তব্য করুন