ইব্রাহিম আকতার আকাশ: রক্তের অভাবে যখন থমকে ছিল এক প্রসূতি মায়ের সিজারিয়ান অপারেশন, তখন সংবাদমাধ্যমের একটি প্রতিবেদন হয়ে উঠল আশার আলো। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম চ্যানেল ভোলায় বিষয়টি নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর তা নজরে আসে ভোলা জেলা পুলিশ সুপার মো. শহিদুল্লাহ কাওছারের। খবর পেয়েই দ্রুত রক্তের ব্যবস্থা করতে উদ্যোগ নেন তিনি। শেষ পর্যন্ত জেলা পুলিশের এক সদস্য স্বেচ্ছায় রক্তদান করায় সফলভাবে সম্পন্ন হয় প্রসূতি মায়ের সিজারিয়ান অপারেশন।
গত ৭ অক্টোবর চ্যানেল ভোলায় ‘রক্তের অভাবে প্রসূতি মায়ের সিজার আটকে আছে’—এমন একটি সংবাদ প্রচার করা হয়। সংবাদটি পুলিশ সুপারের নজরে আসার পর তিনি বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে রক্তের ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নেন।
পরে ভোলা জেলা পুলিশ লাইন্সে কর্মরত কনস্টেবল রায়হান তালুকদার মানবিকতার হাত বাড়িয়ে দিয়ে স্বেচ্ছায় রক্তদানে এগিয়ে আসেন। তাঁর রক্তদানের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় রক্তের ব্যবস্থা হওয়ায় সময়মতো ওই প্রসূতি মায়ের সিজারিয়ান অপারেশন সম্পন্ন করা সম্ভব হয়।
একটি সংবাদ যে শুধু তথ্য জানানোর মাধ্যম নয়, কখনো কখনো তা মানুষের জীবন রক্ষার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে—এই ঘটনাটি তারই উজ্জ্বল উদাহরণ। চ্যানেল ভোলায় সংবাদটি প্রকাশের পর পুলিশ সুপারের দ্রুত সাড়া এবং জেলা পুলিশের সদস্যের স্বেচ্ছায় রক্তদান মানুষের প্রতি দায়িত্ববোধ ও মানবিকতার অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে।
রক্তদাতা কনস্টেবল রায়হান তালুকদারের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করে তাঁর মানবিক উদ্যোগের প্রশংসা করেন পুলিশ সুপার মো. শহিদুল্লাহ কাওছার। এ সময় প্রসূতি মায়ের পরিবারও রক্তদাতা পুলিশ সদস্য এবং ভোলা জেলা পুলিশের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে।
স্থানীয়রা বলছেন, মানুষের সংকটের কথা তুলে ধরা যেমন গণমাধ্যমের দায়িত্ব, তেমনি সেই সংকটে দ্রুত পাশে দাঁড়ানো প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মানবিক দায়িত্ববোধের পরিচয়। এ ঘটনায় চ্যানেল ভোলার সংবাদ প্রচার এবং ভোলা জেলা পুলিশের দ্রুত উদ্যোগ—দুটিই প্রশংসার দাবি রাখে।
ভোলা জেলা পুলিশ জানিয়েছে, অপরাধ দমন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি মানুষের বিপদে-আপদে পাশে দাঁড়ানো এবং জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে তারা সবসময় প্রস্তুত রয়েছে।
জরুরি রক্তের প্রয়োজনে: ভোলা জেলা পুলিশ কন্ট্রোল রুম—০১৩২০-১৫৩০৯৮।
মন্তব্য করুন