মো. মামুন হাজী, লালমোহন: ভোলার লালমোহনে চলমান মাধ্যমিক পর্যায়ের অর্ধবার্ষিক ও এইচএসসি পরীক্ষার মধ্যে ভয়াবহ লোডশেডিংয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন শিক্ষার্থীরা। বিদ্যুৎ না থাকায় উপজেলার একটি মাদ্রাসায় মোমবাতি জ্বালিয়ে পরীক্ষা নেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।
রোববার (৫ জুলাই) সকাল ১১টার দিকে উপজেলার চরভূতা ইউনিয়নের বাংলাবাজার মাহমুদিয়া দাখিল মাদ্রাসায় এমন চিত্র দেখা যায়। পরীক্ষার সময় বিদ্যুৎ না থাকায় শিক্ষার্থীদের মোমবাতির আলোয় পরীক্ষা দিতে হয়েছে।
মাদ্রাসার দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী জিহাদ, এমরান ও শান্ত জানান, বর্তমানে তাদের অর্ধবার্ষিক পরীক্ষা চলছে। সামান্য বৃষ্টি বা বাতাস হলেই বিদ্যুৎ চলে যায়। ফলে পড়াশোনার পাশাপাশি পরীক্ষা দিতেও চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। অনেক সময় মোমবাতির আলোয় পরীক্ষা দিতে বাধ্য হচ্ছেন তারা।
স্থানীয় কয়েকজন অভিভাবক অভিযোগ করে বলেন, ভোলায় বিদ্যুৎ উৎপাদন হলেও জেলার মানুষ কাঙ্ক্ষিত বিদ্যুৎ পাচ্ছেন না। বিশেষ করে লালমোহনে প্রতিদিন প্রায় ১৪ থেকে ১৬ ঘণ্টা লোডশেডিং হচ্ছে। অন্যদিকে নিয়মিত বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করলেও বিলে নানা অসঙ্গতি রয়েছে বলে অভিযোগ করেন তারা। দ্রুত লোডশেডিং কমিয়ে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানান অভিভাবকরা।
বাংলাবাজার মাহমুদিয়া দাখিল মাদ্রাসার শিক্ষক আল এমরান, জাহিদ ও হেলাল উদ্দিন বলেন, পরীক্ষা চলাকালীন প্রায় প্রতিদিনই বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। ফলে মোমবাতি জ্বালিয়ে পরীক্ষা নিতে হচ্ছে। পাশাপাশি বিদ্যুৎ না থাকায় অফিসের দৈনন্দিন কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে।
এ বিষয়ে লালমোহন পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) মাহমুদুল হাসান বলেন, গত দুই দিন ধরে বৈরী আবহাওয়ার কারণে বিভিন্ন স্থানে বিদ্যুতের লাইনে ত্রুটি (ফল্ট) দেখা দিয়েছে। গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি ও বাতাসে গাছের ডাল ভেঙে বিদ্যুতের তারের ওপর পড়ে এবং নরম মাটির কারণে গাছ উপড়ে যাওয়ায় বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। এসব ত্রুটি দ্রুত মেরামতে কর্মীরা কাজ করছেন। তিনি দাবি করেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগজনিত সমস্যা ছাড়া নিয়মিত কোনো লোডশেডিং নেই।
মন্তব্য করুন