আজকের Channel Bhola সংবাদ
Channelbhola
প্রকাশ : Aug 13, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

বরযাত্রীর সাজে বিদায়, ফুলের বৃষ্টিতে অশ্রুসিক্ত চরফ্যাশনের প্রিয় শিক্ষক



জুলফিকার তালুকদার, দক্ষিণ আইচা: ভোলার চরফ্যাশন পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ১৯ নম্বর উত্তর মাদ্রাজ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক রেজাউল করিম কবিরকে ব্যতিক্রমী ও আবেগঘন আয়োজনে বিদায় জানিয়েছেন বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এ বিদায় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে বরযাত্রীবাহী গাড়ির আদলে সাজানো একটি মাইক্রোবাসে প্রিয় শিক্ষক রেজাউল করিম কবিরকে বিদায় জানানো হয়। মাইক্রোবাসটি বিদ্যালয় থেকে বের হওয়ার সময় রাস্তার দুই পাশে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে থাকে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। এ সময় তারা ফুল ছিটিয়ে প্রিয় শিক্ষককে বিদায় জানায়। অন্যদিকে প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা দুই পাশ থেকে ফিতা টেনে তৈরি করেন উৎসবমুখর ও আবেগঘন পরিবেশ।

বিদায়ের মুহূর্তে অনেক শিক্ষার্থীর চোখে পানি দেখা যায়। প্রিয় শিক্ষককে ছেড়ে যাওয়ার বেদনায় কয়েকজন শিক্ষার্থী কান্নায় ভেঙে পড়ে। এতে পুরো বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে তৈরি হয় এক হৃদয়স্পর্শী পরিবেশ।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন চরফ্যাশন উপজেলা বিএনপির সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. মিন্টিজ মিয়া, উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব হাজী জাহিদুল ইসলাম রাসেলসহ বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা।

অনুষ্ঠানে বক্তারা শিক্ষক রেজাউল করিম কবিরের দীর্ঘ কর্মজীবনের বিভিন্ন স্মৃতি তুলে ধরেন। হাজী জাহিদুল ইসলাম রাসেল বলেন, রেজাউল করিম কবির অত্যন্ত আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে বিদ্যালয়ে দায়িত্ব পালন করেছেন। বিদ্যালয়ের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা থেকে শুরু করে বাথরুম পরিষ্কার পর্যন্ত তিনি নিজ হাতে করতেন। তাঁর মতো আন্তরিক ও নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষক সত্যিই বিরল।

প্রিয় শিক্ষককে বিদায় জানাতে গিয়ে এক শিক্ষার্থী কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলে, ‘স্যার আমাকে রিডিং শিখিয়েছেন। এখন আমি পড়তে ও লিখতে জানি। স্যার চলে যাচ্ছেন, তাই আমার অনেক কষ্ট হচ্ছে।’

বিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র, সমাজসেবক ও বিদায় অনুষ্ঠানের আয়োজক সবুজ বলেন, বিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষক অনুপস্থিত থাকলে রেজাউল করিম কবির নিজেই সেই ক্লাস পরিচালনা করতেন। বিদ্যালয়ের প্রতি তাঁর আন্তরিকতা, দায়িত্ববোধ ও ভালোবাসা ছিল অসাধারণ। তাঁর কথা বলতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন তিনি।

বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা বলেন, রেজাউল করিম কবির শুধু একজন শিক্ষক ছিলেন না, তিনি শিক্ষার্থীদের কাছে ছিলেন অভিভাবকের মতো। দীর্ঘ কর্মজীবনে তাঁর আন্তরিকতা, শৃঙ্খলা, দায়িত্ববোধ ও শিক্ষার্থীদের প্রতি ভালোবাসার যে দৃষ্টান্ত তিনি রেখে গেছেন, তা বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মনে দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে।


 

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

গ্যাসের দাম এক টাকাও বাড়ালে সরকার টিকতে পারবে না

1

২০ বছরেও সংস্কার হয়নি সড়ক, ক্ষুব্ধ মনপুরাবাসী

2

মনপুরায় পানিতে ডুবে প্রাণ গেল শিশুর

3

পদত্যাগ করে দীর্ঘ স্ট্যাটাস ভারতীয় শিক্ষামন্ত্রীর

4

ঢাকা-১০ আসন নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিলেন রাশেদ খাঁন

5

সরানো হচ্ছে ৫ আগস্টের আগের ১৬৯ পুলিশ সদস্যকে

6

বৃক্ষমেলা শেষ হলেও বৃক্ষরোপণ ও পরিচর্যার দায়িত্ব শেষ হয়নি: প

7

দেশে বাড়ছে অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী জীবাণু, উদ্বেগ প্রকাশ স

8

অস্ত্র ফেলে পলানোর ঘটনায় দুঃখপ্রকাশ বিএসএফের

9

নাশকতা করার মতো সক্ষমতা নেই আ.লীগের: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

10

বৈরী আবহাওয়ায় গভীর সাগরে তিন ট্রলারডুবি, নিখোঁজ ১৩ জেলে

11

পদ্মা নদী থেকে দুই শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার

12

সেন্টমার্টিন ভেসে এলো অজ্ঞাত তিন নারীর মরদেহ

13

অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে দক্ষিণাঞ্চলের কৃষিতে বিপর্যয়, ভোলায় ক

14

নিম্ন আদালতে ঢালাও ফাঁসি: বিচারক মামুনের বিচারিক ক্ষমতা কেড়ে

15

নাসীরুদ্দীন, সারজিসসহ ৯ এনসিপি নেতার বিরুদ্ধে ছিনতাই ও হামলা

16

আমি প্রায় হাসিনা হয়ে গিয়েছিলাম: বাঁধন

17

চরফ্যাশনে মিয়ানমারে পাচারের সময় ২৯৩ বস্তা সার জব্দ, আটক ৪

18

কষ্ট না দিয়ে হাসি দিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

19

মুক্তিযুদ্ধের ৫৫ বছর পর শরীর থেকে বের করা হলো গুলি

20