মো. মেহেদী হাসান, মনপুরা: ভোলার মনপুরা উপজেলার ২ নম্বর হাজীরহাট ইউনিয়নের চর যতিন ৪ নম্বর ওয়ার্ডে মনপুরা শিশু সদন এতিমখানা সংলগ্ন খাদ্যগুদামের সংযোগ সড়কটি প্রায় ২০ বছর ধরে সংস্কারহীন অবস্থায় পড়ে আছে। উত্তরে ডিসি রোড এবং দক্ষিণে খাদ্যগুদাম সড়কের সঙ্গে সংযুক্ত গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি বর্তমানে এলাকাবাসীর দুর্ভোগের অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দুই দশক পেরিয়ে গেলেও সড়কটিতে কোনো সংস্কারকাজ হয়নি। সড়কের দুই পাশে প্রায় চার হাজার মানুষের বসবাস হলেও পানি নিষ্কাশনের জন্য নেই কোনো ড্রেন। ফলে বর্ষা মৌসুমে হাঁটুসমান পানি ও কাদায় তলিয়ে যায় পুরো সড়ক। এতে চলাচল প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে।
সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়ে শিক্ষার্থীরা। বর্ষাকালে প্রায় দুই মাস বিদ্যালয়ে যাতায়াত ব্যাহত হওয়ায় অনেকের পড়াশোনায় বিঘ্ন ঘটে। একই সঙ্গে বয়স্ক ব্যক্তি, শিশু, গর্ভবতী নারী ও অসুস্থ রোগীদের সময়মতো চিকিৎসাকেন্দ্রে নেওয়াও কঠিন হয়ে পড়ে। এমনকি মৃত ব্যক্তির মরদেহও এই সড়ক দিয়ে বহন করা সম্ভব হয় না।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. ইকরাম কবির বলেন, “গত বছর আমার মা মারা যান। কিন্তু রাস্তায় হাঁটুসমান পানি ও কাদা থাকায় তাঁর মরদেহ শেষবারের মতো নিজের বাড়িতে নিতে পারিনি। বাধ্য হয়ে অন্য এলাকায় দাফন করতে হয়েছে। সেই কষ্ট কোনো দিন ভুলতে পারব না।”
আরও কয়েকজন বাসিন্দা জানান, বিগত সরকারের সময় তারা একাধিকবার স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত আবেদন করেছেন। প্রতিবারই ড্রেন নির্মাণ ও সড়ক পাকাকরণের আশ্বাস মিললেও গত ২০ বছরেও কোনো কাজের অগ্রগতি হয়নি।
একজন ক্ষুব্ধ বাসিন্দা বলেন, “আমরা কি এই দেশের নাগরিক নই? সরকারকে কর দিই, অথচ আমাদের একমাত্র চলাচলের সড়কের এমন দুরবস্থা দেখার কেউ নেই। নির্বাচনের সময় আমাদের ভোটের মূল্য থাকে, কিন্তু নির্বাচন শেষ হলেই আমরা যেন ভুলে যাওয়া মানুষ হয়ে যাই। আমরা আর আশ্বাস চাই না, চাই দ্রুত সড়ক পাকাকরণ ও ড্রেন নির্মাণ।”
উপজেলা এলজিইডি অফিস সূত্রে জানা গেছে, সড়কটির জন্য ১২ আগস্ট ২০১৫ সালে আইডি (নং-৫০৯৬৫২০০৩) খোলা হয়েছে। নতুন প্রকল্পে সড়কটি পাকাকরণের জন্য অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। প্রকল্পের অনুমোদন পাওয়া গেলে দ্রুত কাজ শুরু করা হবে।
এলজিইডি সূত্র আরও জানায়, সড়কটি মনপুরা শিশু সদন এতিমখানার পাশ থেকে উপজেলা খাদ্যগুদাম হয়ে ইউনিয়ন পরিষদের সামনে দিয়ে বাঁধেরহাট জামে মসজিদের সামনে ডিসি রোডের সঙ্গে সংযুক্ত করা হবে।
এদিকে উপজেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, ওই এলাকার পানি নিষ্কাশনের জন্য নতুন একটি স্লুইসগেট নির্মাণ ও খাল খননের লক্ষ্যে আবেদন করা হয়েছে।
এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিনের ভোগান্তি নিরসনে আর কোনো আশ্বাস নয়, দ্রুত সড়ক সংস্কার, পাকাকরণ এবং ড্রেন নির্মাণের কাজ শুরু করা হোক।
মন্তব্য করুন