মো. সবুজ: ভোলার চরফ্যাশনে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে দায়ের করা মামলার ১ নম্বর আসামি মো. নূরনবীর জামিন আবেদন প্রথমে নামঞ্জুর করেছেন আদালত। পরে আসামির অসুস্থতার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে নগদ ২ লাখ টাকা আদালতে জমা দেওয়ার শর্তে তাকে জামিন দেওয়া হয়েছে।
মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, চরফ্যাশন উপজেলার আব্দুল্লাহপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা তারা (২১) বাদী হয়ে ভোলার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় তার স্বামী মো. নূরনবীসহ চারজনকে আসামি করা হয়েছে। মামলাটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ১১(ক)/৩০ ধারায় দায়ের করা হয়েছে।
মামলার অভিযোগে বাদী উল্লেখ করেন, বিয়ের সময় আসামিপক্ষ যৌতুক হিসেবে ৫ লাখ টাকা দাবি করে। পরবর্তীতে বিয়ের পরও যৌতুকের দাবিতে তাকে বিভিন্নভাবে চাপ ও নির্যাতন করা হয়। একপর্যায়ে তার বাবার কাছ থেকে আরও ৩ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করা হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, যৌতুকের টাকা দিতে না পারায় আসামিরা বাদীকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করেন। এমনকি তাকে মারধর, গলায় ওড়না পেঁচিয়ে হত্যার চেষ্টা এবং বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগও করা হয়েছে। পরে অসুস্থ অবস্থায় তাকে চরফ্যাশন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয় বলে মামলার নথিতে উল্লেখ রয়েছে।
এ ঘটনায় আদালতে মামলা দায়েরের পর মামলার ১ নম্বর আসামি মো. নূরনবী ও ৩ নম্বর আসামি নুর ইসলাম জামিনের আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত প্রথমে নুর ইসলামের জামিন আবেদন মঞ্জুর এবং নূরনবীর জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন। পরে নূরনবীর অসুস্থতার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এবং নগদ ২ লাখ টাকা আদালতে জমা দেওয়ার শর্তে আগামী তারিখ পর্যন্ত তার জামিন মঞ্জুর করেন আদালত।
তবে মামলায় করা অভিযোগগুলো আদালতে বিচারাধীন। এসব অভিযোগের বিষয়ে আসামিপক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।
মন্তব্য করুন