আদালত সূত্রে জানা গেছে, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সিআইডির পরিদর্শক জিয়াউল মোর্শেদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৪ মে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা মরদেহ উত্তোলন, সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত এবং ময়নাতদন্তের অনুমতি দেন।
তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনে উল্লেখ করা হয়, হত্যার প্রকৃত কারণ উদঘাটনের স্বার্থে মরদেহ পুনরায় উত্তোলন প্রয়োজন। এর আগে সালমান শাহর মরদেহ দুই দফা ময়নাতদন্ত করা হয়েছিল। প্রথম প্রতিবেদনে মৃত্যুকে আত্মহত্যাজনিত শ্বাসরোধ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। দ্বিতীয় ময়নাতদন্তে মরদেহের পচনশীল অবস্থার কারণে মৃত্যুর কারণ নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি।
তবে মরদেহ উত্তোলনের বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিয়েছে সালমান শাহর পরিবার। বাদীপক্ষের আইনজীবী ফারুক আহাম্মদ জানিয়েছেন, পরিবারের মতামতের ভিত্তিতে তারা আদালতে লিখিত আপত্তি (নারাজি) দাখিল করবেন।
তিনি বলেন, “১৯৯৭ সালে দ্বিতীয়বার মরদেহ উত্তোলনের সময়ই পচনের কারণে মৃত্যুর কারণ নির্ধারণ করা যায়নি। এত বছর পর নতুন করে ময়নাতদন্তে কার্যকর কোনো ফল পাওয়া যাবে বলে মনে হয় না। এছাড়া ধর্মীয় অনুভূতি এবং ভক্তদের আবেগের বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন।”
উল্লেখ্য, ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর রহস্যজনকভাবে মারা যান সালমান শাহ। প্রথমে এটি অপমৃত্যুর মামলা হিসেবে তদন্ত করা হলেও পরে হত্যার অভিযোগ ওঠে। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পর গত বছরের অক্টোবরে আদালত মামলাটিকে হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেন।
বর্তমানে মামলায় সালমান শাহর স্ত্রী সামীরা হকসহ ১১ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলাটি এখন সিআইডির তদন্তাধীন রয়েছে।
সালমান শাহর মৃত্যুকে ঘিরে তিন দশক ধরে চলা রহস্য, বিতর্ক এবং বিচারপ্রক্রিয়া নতুন মোড় নিয়েছে আদালতের এই আদেশের মাধ্যমে। এখন পরিবার ও তদন্ত সংস্থার পরবর্তী আইনি পদক্ষেপের দিকে নজর রয়েছে দেশজুড়ে তার অসংখ্য ভক্ত-অনুরাগীর।
মন্তব্য করুন