চ্যানেল ভোলা: চলন্ত ট্রেনে দুর্বৃত্তের ছোড়া পাথরের আঘাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার এক আয়কর আইনজীবী গুরুতর আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় তার ডান চোখের দৃষ্টিশক্তি সম্পূর্ণভাবে হারিয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।
আহত শ্যামল চন্দ্র দাস (৪৬) ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের কান্দিপাড়া এলাকার বাসিন্দা এবং জেলা আয়কর আইনজীবী সমিতির সদস্য।
পরিবার ও সহকর্মীদের সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার একটি জরুরি কাজে ঢাকায় গিয়ে রাতে চট্টগ্রামগামী তূর্ণা এক্সপ্রেস ট্রেনে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার উদ্দেশে রওনা হন শ্যামল চন্দ্র দাস। ট্রেনটি আশুগঞ্জ উপজেলার তালশহর এলাকা অতিক্রম করার সময় অজ্ঞাত ব্যক্তিরা চলন্ত ট্রেন লক্ষ্য করে পাথর নিক্ষেপ করে। ছোড়া একটি পাথর সরাসরি তার ডান চোখে আঘাত করলে তিনি গুরুতর আহত হন।
পরে ট্রেনটি ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে স্টেশনে পৌঁছালে স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে উদ্ধার করে প্রথমে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে তার চোখে অস্ত্রোপচার করা হলেও চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্ত চোখে আর দৃষ্টিশক্তি ফেরানো সম্ভব নয়।
আহতের স্বজনেরা জানান, চোখটির বাহ্যিক গঠন সংরক্ষণ করা হলেও কার্যক্ষমতা পুরোপুরি হারিয়েছে। বর্তমানে তিনি ঢাকায় স্বজনদের তত্ত্বাবধানে রয়েছেন এবং চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত ফলোআপ করাচ্ছেন।
ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। স্থানীয়দের দাবি, আশুগঞ্জ-আখাউড়া রেলপথে এর আগেও একাধিকবার ট্রেনে পাথর নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে, যা যাত্রীদের নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আহত শ্যামল চন্দ্র দাস বলেন, চিকিৎসকরা তাকে জানিয়েছেন যে ক্ষতিগ্রস্ত চোখে আর দৃষ্টি ফিরে আসবে না। এ ঘটনায় তিনি আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আয়কর আইনজীবী সমিতির নেতারা ঘটনার নিন্দা জানিয়ে দোষীদের দ্রুত শনাক্ত ও শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, চলন্ত ট্রেনে পাথর নিক্ষেপ অত্যন্ত বিপজ্জনক ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
এ বিষয়ে আখাউড়া রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবদুল কুদ্দুস বলেন, এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
মন্তব্য করুন