এইচ এম নোমান, চরফ্যাশন: ভোলার চরফ্যাশন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান ও তাঁর অনুসারীদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগকে কেন্দ্র করে পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এক পক্ষ শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও অর্থনৈতিক কারচুপির অভিযোগ তুলেছে। অপর পক্ষ এসব অভিযোগকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও অপপ্রচার হিসেবে দাবি করেছে।
গত ১৪ সেপ্টেম্বর শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমানের পক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনের প্রতিবাদে বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) চরফ্যাশন উপজেলার সর্বস্তরের প্রাথমিক শিক্ষক সমাজের ব্যানারে পাল্টা সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে লিখিত বক্তব্যের পাশাপাশি বিভিন্ন নথিপত্র তুলে ধরে শিক্ষা কর্মকর্তা ও তাঁর অনুসারীদের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ করেন শিক্ষক নেতারা।
সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষক নেতারা অভিযোগ করেন, শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ আড়াল করতেই পাল্টা সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে। তাদের দাবি, সুনির্দিষ্ট অভিযোগের জবাব না দিয়ে অভিযোগকারীদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার ও চরিত্রহননের চেষ্টা করা হচ্ছে।
লিখিত বক্তব্যে শিক্ষক নেতারা দাবি করেন, ১৬৮ নম্বর দক্ষিণ চর আইচা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ‘এডুকেশন ইন ইমার্জেন্সি’ ও মেরামত খাতে দুই বছরে তিন দফায় মোট ৭ লাখ টাকা বরাদ্দ দেখানো হয়েছে। একই সঙ্গে বিদ্যালয়ে ওয়াই-ফাই সংযোগ না থাকা সত্ত্বেও ১৮ লাখ ১৫ হাজার ২০০ টাকার বিল পাসের অভিযোগ করা হয়।
এ ছাড়া ৪২টি বিদ্যালয়ের ভোটকেন্দ্র সংস্কারের টাকা আটকে রেখে ৬ শতাংশ হারে অর্থ আদায়, প্রতিবন্ধী শিশুদের জন্য ৯০ হাজার টাকার বিশেষ ডিভাইস ক্রয় না করে ভুয়া ভাউচারের মাধ্যমে অর্থ উত্তোলন এবং প্রাক-প্রাথমিক সজ্জিতকরণ বিল থেকে প্রতিষ্ঠানপ্রতি ৫০০ টাকা করে নেওয়ার অভিযোগ তোলেন শিক্ষক নেতারা।
তারা আরও অভিযোগ করেন, হাজিরহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের ১ লাখ ৪০ হাজার টাকার এরিয়া বিল অহেতুক আটকে রাখা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষক নেতারা বলেন, এসব অভিযোগের বিষয়ে শিক্ষা কর্মকর্তা আত্মপক্ষ সমর্থনে বক্তব্য দিলেও অভিযোগগুলোর সুনির্দিষ্ট জবাব দেননি। একই সঙ্গে দুর্নীতির প্রতিবাদকারী কয়েকজন শিক্ষককে রাজনৈতিকভাবে বিতর্কিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।
অন্যদিকে, শিক্ষা কর্মকর্তার পক্ষের সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষক নেতাদের এসব অভিযোগের বিরোধিতা করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
পাল্টা সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষক নেতারা আরও অভিযোগ করেন, শিক্ষা কর্মকর্তার পক্ষে সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেওয়া কয়েকজন শিক্ষক নিয়মিত পাঠদান না করে শিক্ষা অফিসকেন্দ্রিক তদবির ও বিভিন্ন কাজে যুক্ত থাকেন। সাধারণ শিক্ষকদের ভয়ভীতি দেখিয়ে সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।
সংবাদ সম্মেলন থেকে তিন দফা দাবি জানানো হয়। দাবিগুলো হলো— শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান ও তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে উচ্চপর্যায়ের নিরপেক্ষ তদন্ত, শিক্ষকদের বিরুদ্ধে আনা রাজনৈতিক অপবাদ ও অপপ্রচার প্রত্যাহার এবং ভুয়া ভাউচারের মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া।
শিক্ষক নেতারা বলেন, দাবিগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন করা না হলে শিক্ষার পরিবেশ রক্ষা ও শিক্ষকদের সম্মান পুনরুদ্ধারে চরফ্যাশনের সর্বস্তরের শিক্ষক সমাজকে নিয়ে আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি চরফ্যাশন উপজেলা শাখার সভাপতি মোহাম্মদ মিনহাজ উদ্দিন মমিন, সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুল হাই হাওলাদার, বাংলাদেশ সরকারি প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি মো. আব্দুল হাই খান, সাধারণ সম্পাদক মো. শফিকুল ইসলাম বাবুল, বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক পরিষদের সভাপতি মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ইউসুফ, মোহাম্মদ হারুনুর রশিদ, মোহাম্মদ ফুয়াদ, হাজিরহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মনির উদ্দিনসহ বিভিন্ন বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকারা উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন