ফরিদপুরে দেবরকে সঙ্গে নিয়ে স্বামী নুরুল ইসলাম মোল্লাকে কুপিয়ে হত্যার দায়ে স্ত্রী ও ছোট ভাইকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে দুই মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) দুপুর ২টার দিকে ফরিদপুরের পারিবারিক আপিল আদালতের বিচারক ও জেলা ও দায়রা জজ অশোক কুমার দত্ত এ রায় দেন।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- সালথা উপজেলার ভাওয়াল ইউনিয়নের পুরুরা গ্রামের মুন্নি বেগম (৩৫) ও তার দেবর মাহাবুল মোল্লা (৩৪)। রায় ঘোষণার সময় মুন্নি বেগম আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে তাকে পুলিশ পাহারায় জেলা কারাগারে পাঠানো হয়। অপর আসামি মাহাবুল মোল্লা আদালতে উপস্থিত না থাকায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ২০১৯ সালের ১৭ মার্চ রাতে খাবার খেয়ে দুই সন্তানকে নিয়ে নিজ ঘরে ঘুমিয়ে পড়েন নুরুল ইসলাম ও তার স্ত্রী মুন্নি বেগম। ওই দিন দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে মুন্নির চিৎকার শুনে পরিবারের সদস্যরা ছুটে এসে ঘরের পাশে রক্তাক্ত অবস্থায় নুরুল ইসলামের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন।
এ ঘটনায় ১৯ মার্চ নিহতের বাবা মান্নান মোল্লা সালথা থানায় অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করেন।
মামলাটি তদন্ত করেন ফরিদপুর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) এসআই আলমগীর হোসেন। তদন্ত শেষে তিনি নুরুল ইসলামের স্ত্রী মুন্নি বেগম ও ছোট ভাই মাহাবুল মোল্লাকে অভিযুক্ত করে ২০২১ সালের ২৩ জানুয়ারি আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) মো. আজিজুর রহমান বলেন, ভাবি ও দেবর পরস্পর যোগসাজশে এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন। ব্যক্তিগত স্বার্থে নুরুল ইসলামকে হত্যা করেন বলে মামলার তদন্তে উঠে এসেছে। এ ধরনের অপরাধের ক্ষেত্রে এমন শাস্তি ভবিষ্যতে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখবে।
মন্তব্য করুন