জুলফিকার তালুকদার, চরফ্যাশন: ভোলার চরফ্যাশনের দক্ষিন আইচার থানার চরমানিকা ইউনিয়নের যুবক মো. ফজলু (২৪) চট্টগ্রাম থেকে মাছ ধরার ট্রলিং জাহাজে গিয়ে বঙ্গোপসাগরে পড়ে নিখোঁজ হয়েছেন। তবে কীভাবে তিনি সাগরে পড়ে নিখোঁজ হলেন, তা নিয়ে ধোঁয়াশায় রয়েছে পরিবার।
নিখোঁজ ফজলু চরমানিকা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সফিজল মাঝির ছেলে।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, সাগরে মাছ শিকারের জন্য গত ১৬ আগস্ট বাবা সফিজল মাঝির সঙ্গে ভোলা থেকে চট্টগ্রামের কর্ণফুলী এলাকায় যান ফজলু। সেখানে মেসার্স সোহাগ এন্টারপ্রাইজ নামের একটি মাছ ধরার ট্রলিং জাহাজের ক্যাপ্টেন হাসানের কাছে তাকে বুঝিয়ে দিয়ে চরফ্যাশনে ফিরে আসেন ফজলুর বাবা সফিজল মাঝি। পরে ১৯ আগস্ট সকালে মাছ শিকারের জন্য সাগরের উদ্দেশ্য ছেড়ে যায় জাহাজটি।
ফজলুর পরিবারের দাবি, ২১ আগস্ট দুপুরে জাহাজ থেকে ফোন করে ফজলুর বাবা-মাকে তার নিখোঁজের বিষয়টি জানান জাহাজের ক্যাপ্টেন।
পরে ছেলে নিখোঁজ হওয়ার খবর পেয়ে ফজলুর বাবা-মা চট্টগ্রামের উদ্দেশ্য রওয়ানা করেন। তারা চট্টগ্রাম পৌঁছালে জাহাজের ক্যাপ্টেন হাসানের শশুর তাদের রিসিভ করে একটি বাড়িতে নেয়। প্রথমে ফজলু জীবিত আছেন বলে জানানো হলেও পরে জাহাজ মালিকসহ কয়েকজন ব্যক্তি উপস্থিত হয়ে ফজলুর নিখোঁজের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
ফজলুর বাবা-মায়ের অভিযোগ, ওইদিন রাতে জাহাজ মালিকসহ কয়েকজন ব্যক্তি ফজলুর বাবা সফিজল মাঝিকে কয়েকটি কাগজে স্বাক্ষর করতে চাপ দেন। ভয়-ভীতি দেখিয়ে তার থেকে জোরপূর্বক স্বাক্ষর নেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন।
তাদের আরও অভিযোগ, এ সময় সফিজল মাঝিকে এক লাখ টাকা দেওয়ার চেষ্টা করেন জাহাজ মালিক। তবে তিনি টাকা নিতে অস্বীকৃতি জানান। একই সঙ্গে ফজলু যে জাহাজে ছিলেন, সেটি দেখার জন্য অনুরোধ করলেও তাদের সেখানে যেতে দেওয়া হয়নি বলে দাবি পরিবারের।
নিখোঁজ ফজলুর মা কোহিনুর বেগম বলেন, “আমার ছেলে কোথায়, কীভাবে সাগরে পড়েছে—আমরা কিছুই পরিষ্কারভাবে জানতে পারছি না। আমরা শুধু ছেলের সন্ধান চাই।”
ফজলুর পরিবারের দাবি, ফজলু কীভাবে নিখোঁজ হলেন এবং ঘটনার পর কেন তাদের কাছ থেকে কাগজে স্বাক্ষর নেওয়া হলো—এসব বিষয় তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করা হোক।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট জাহাজের মালিক, ক্যাপ্টেন ও অন্যদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
মন্তব্য করুন