মো. মামুন হাজী, লালমোহন প্রতিনিধি:ভোলার লালমোহন উপজেলায় এক প্রবাসীর সাড়ে ৫ কোটি টাকা, ১৫ ভরি স্বর্ণালংকার ও নিজের অর্থে নির্মিত বাড়ি আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে তাঁর বাবা-মা, দুই বোন ও দুই বোনজামাতার বিরুদ্ধে। উপজেলার চরভূতা ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের হাজীগঞ্জ এলাকার মোহাম্মদ মুন্সি বাড়ির বাসিন্দা প্রবাসী মো. মোশারেফ হোসেন এ অভিযোগ করেছেন।
মোশারেফ হোসেনের দাবি, দীর্ঘ ১৭ বছর প্রবাসে থেকে উপার্জিত অর্থের একটি বড় অংশ তিনি মা-বাবার নামে দেশে পাঠাতেন। তাঁদের প্রতি বিশ্বাস রেখে পাঠানো ওই অর্থ দিয়ে বিভিন্ন সম্পদ গড়ে তোলা হলেও বর্তমানে তিনি নিজের অর্থ ও সম্পদের নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছেন। এ ঘটনায় তাঁর বাবা বসির উল্লাহ, মা মনোয়ারা বেগম, দুই বোন সেলেনা ও মোরশেদা এবং দুই বোনজামাতা মাকসুদ ও সজিবের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন তিনি।
প্রবাসী মোশারেফের অভিযোগ, দুই বোন ও বোনজামাতাদের প্ররোচনায় মা-বাবার সঙ্গে তাঁর দূরত্ব তৈরি হয়েছে। দীর্ঘদিনের উপার্জনে সম্পদ গড়ে তুলেও এখন তিনি সেই সম্পদ ভোগ করতে পারছেন না বলে দাবি করেন।
তিনি আরও জানান, বিয়ের জন্য শতাধিক পাত্রী দেখাসহ প্রায় দুই লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। পরে পরিবারের পছন্দে বিয়ে করলেও স্ত্রীকে নিয়ে নিজের বাড়িতে সংসার শুরু করতে পারেননি। বর্তমানে স্ত্রীকে নিয়ে শ্বশুরবাড়িতে বসবাস করছেন বলে জানান তিনি।
মোশারেফ হোসেন বলেন, “আমরা আট ভাইবোন। দুই বোন ও বোনজামাতাদের ষড়যন্ত্রে বাকি ছয় ভাইবোন অসহায় হয়ে পড়েছি। আমি কখনো মা-বাবার সঙ্গে খারাপ আচরণ করিনি। অথচ আমার দুই বোন আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করেছে এবং জেল খাটিয়েছে। আমি আমার ন্যায্য অধিকারটুকু চাই।”
তিনি আরও বলেন, “দীর্ঘ ১৭ বছর প্রবাসে থেকে মা-বাবার নামে টাকা পাঠিয়ে যে সম্পদ গড়েছি, আজ সেই সম্পদ থেকেই আমি বঞ্চিত। আমার চাওয়া শুধু আমার ন্যায্য পাওনা, মা-বাবার ভালোবাসা আর স্ত্রীকে নিয়ে নিজের বাড়িতে শান্তিতে বসবাস করা।”
মোশারেফের দাবি, তিনি মা-বাবাকে নিজের কাছে ফিরিয়ে এনে তাঁদের দেখাশোনা করতে চান। স্ত্রী ও মা-বাবাকে নিয়ে সংসার করার পাশাপাশি নিজের অর্থে নির্মিত বাড়িতে ফিরে বসবাস করাই তাঁর প্রত্যাশা।
এদিকে মোশারেফের আরেক বোনও তাঁদের মা-বাবার বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন। তাঁর দাবি, মা-বাবার ষড়যন্ত্রের কারণে তাঁর ৩০ বছরের সংসার ভেঙে যায়। স্বামী তাঁকে তালাক দেওয়ার পর মা-বাবার কাছে আশ্রয় চাইলে দুই বোনের কথায় তাঁকে আশ্রয় দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাঁরা দরজা বন্ধ করে বাসার ভেতরে অবস্থান করেন। ফলে এ বিষয়ে তাঁদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
তবে অর্থ ও সম্পদ আত্মসাতের অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলোর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
মন্তব্য করুন