চ্যানেল ভোলা: পটুয়াখালীর বাউফলে ইসরাত জাহান নিশি (২৬) নামে এক গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার (১১জুলাই) সকালে পৌরসভার দরবেশ আলী মিয়া সড়কের একটি বাসভবন থেকে ওই মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত গৃহবধূ ভোলা জেলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার দেউলা গ্রামের বাসিন্দা মো. নাসির উদ্দিন মোল্লার মেয়ে এবং যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী মো. মনির হোসেন ঢালীর (৪৫) স্ত্রী।
নিহত ইসরাত জাহান নিশির শ্বশুর বাড়ির লোকজন বলছেন,‘ সে (নিশি) দীর্ঘদিন ধরে হতাশায় ভুগছিলেন। হতাশা থেকেই আত্নহত্যা করেছেন। তবে নিশির পরিবারের অভিযোগ,‘ সুপরিকল্পিত ভাবে নিশিকে হত্যা করেছে তার শ্বশুর বাড়ির লোকজন।
জানা যায়, মনির হোসেন দীর্ঘ বছর ধরে আমেরিকায় থাকেন। চলতি বছরের এপ্রিল মাসে পারিবারিকভাবে তাদের (মনির ও নিশি) বিয়ে হয়। গত ২৬ জুন নিশি বাউফলে স্বামীর বাসায় আসেন। ২৪ জুলাই মনির হোসেনের যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে যাওয়ার কথা ছিল।
নিহত নিশির স্বামী মনির হোসেন বলেন, শুক্রবার রাতে খাবার খেয়ে তারা একই কক্ষে ঘুমাতে যান। রাত প্রায় ১টার দিকে প্রকৃতির ডাকে সাড়া দেওয়ার কথা বলে কক্ষ থেকে বের হয়ে পাশের একটি কক্ষে প্রবেশ করেন এবং ভেতর থেকে দরজা বন্ধ করে দেন নিশি। অনেক ডাকাডাকি করলে সে (নিশি) জানান, সে দিন একাই ঘুমাতে চান। সকালে আবার ডাকাডাকি করেও কোনো সাড়া না পেয়ে তিনি ৯৯৯-এ ফোন করেন। পরে পুলিশ এসে দরজা ভেঙে মরদেহ উদ্ধার করে।
তবে নিশির পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকে নিশি ও তার স্বামীর মধ্যে অমিল দেখে দেয়। পরে বিয়ের ১০ দিনের মাথায় তালাক হয়ে যায়। তালাকের পরেও দুজনের মধ্যে যোগাযোগ ছিল। পরে চলতি বছরের ১৪ এপ্রিল পুনরায় বিয়ে। বিয়ের পর থেকেই নিশি তার বাবার বাড়িতে ছিলেন। মোবাইল ফোনে স্বামীর সাথে কথা হত। ২৬ জুন নিশি তার শ্বশুর বাড়ি আসেন। শ্বশুর বাড়ি আসার পর থেকে নিশিকে তার শ্বশুর বাড়ির লোকজন নির্যাতন করে শুরু করেন। ঘটনার দিন শ্বশুর বাড়ির লোকজন নির্যাতন করে নিশিকে হত্যা করেন বলে অভিযোগ তুলেন নিশির পরিবারের সদস্যরা।
নিশির ছোট ভাই মো. নাহিদ বলেন, প্রথবার বিয়ে পর ২লাখ ৫০ হাজার টাকা দেনমোহর পরিশোধ করে তাদের মধ্যে বিবাহ বিচ্ছেদ হয়। কিছুদিন পরে ৩লাখ টাকা দেন মোহরে দ্বিতীয় বার বিয়ে হয়। দ্বিতীয় বার বিয়ের পর থেকে ওই তালাকের আড়াই লাখ টাকা ফেরতের জন্য নিশিকে চাপ দেওয়া হচ্ছিল। টাকা ফেরত ও বিনা শর্তে তালাক দেওয়ার চাপ দিয়ে নিশিকে নির্যাতন করছিলেন তার স্বামী ও স্বামীর বাড়ির লোকজন। সবশেষ নিশিকে তারা (শ্বশুর বাড়ির লোকজন) সুপরিকল্পিতভাবে হত্যা করে আত্নহত্যার নাটক সাজায়।
এদিকে হত্যার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন স্বামী মনির হোসেন। তিনি বলেন, ২৮ জুন আমেরিকা যাওয়ার টিকেট কাটা ছিল। স্ত্রী আসার কারণে তা পিছিয়ে ২৪ জুলাইয়ের টিকিট কাটা হয়। আমি আমেরিকা গিয়ে তাকে ভুলে যাব এমন ধারনা থেকে হতাশায় ভুগছিলেন নিশি। সেই হতাশা থেকেই আত্নহত্যা করেছেন বলে দাবি করেছেন স্বামী মনির হোসেন।
বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন,‘জরুরী সেবা ৯৯৯ এ ফোন পেয়ে পুলিশ গিয়ে দরজা ভেঙে ফ্যানের সাথে ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পটুয়াখালী মর্গে পাঠানো হয়েছে। নিহত গৃহবধূর পরিবারের অভিযোগ আমলে নিয়ে তদন্ত চলছে। এ বিষয়ে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
মন্তব্য করুন