রাহাত হোসেন,
ভোলা: মাত্র ৫ হাজার টাকা
পুঁজি। সেই ছোট্ট উদ্যোগই আজ বদলে দিয়েছে
ভোলার এক তরুণের জীবন।
ভোলা শহরের নতুন বাজার এলাকায় রাস্তার পাশে চিকেন টিক্কা ও কাবাব বিক্রি
করে স্বাবলম্বী হয়েছেন ভোলা সদর উপজেলার বাপ্তা ৭নখ ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো. নিজাম। বর্তমানে তার দোকানে কর্মরত রয়েছেন ৬ জন কর্মচারী।
তাদের বেতন বাবদ প্রতি মাসে ব্যয় হয় প্রায় ১ লাখ ৪০
হাজার টাকা। সব খরচ বাদ
দিয়ে নিজামের মাসিক আয় ৭০ থেকে ৮০
হাজার টাকা।
জানা
যায়, আর্থিক সংকটের মধ্যেই মাত্র ৫ হাজার টাকা
নিয়ে রাস্তার পাশে ছোট পরিসরে চিকেন টিক্কা ও কাবাব বিক্রি
শুরু করেন নিজাম। শুরুতে ক্রেতা কম থাকলেও ধীরে
ধীরে সুস্বাদু খাবার, মানসম্মত উপকরণ ও আন্তরিক সেবার
কারণে তার দোকান জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। বর্তমানে প্রতিদিন বিকেল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত দোকানে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় থাকে। প্রতিদিন গড়ে ১০০ কেজি চিকেন টিক্কা এবং ২০ কেজি কাবাব
বিক্রি করেন তিনি। প্রতিটি কাবাবের মূল্য ৬০ টাকা এবং
চিকেন টিক্কার মূল্য ১০ টাকা। দৈনিক
তার বেচাকেনা ১৫ থেকে ২০
হাজার টাকা।
উদ্যোক্তা
মো. নিজাম চ্যানেল ভোলাকে জানান- শুরুটা অনেক কষ্ট হইছে আমার। বন্ধু-আত্মীয়স্বজনরা বলেছে রাস্তার পাশে ব্যবসা করবি মানসম্মান কিছু থাকবে না। তবে আমি তাদের কথা শুনি নাই;নিজের চেষ্টায় শুরু করলাম এই ব্যবসা৷ এখন
আলহামদুলিল্লাহ ভাল আছি।
সব
সময় চেষ্টা করেছি ভালো মানের খাবার পরিবেশন করতে। ক্রেতাদের ভালোবাসার কারণেই আজ ব্যবসা এই
অবস্থানে এসেছে। বর্তমানে আমার এখানে ৬ জন লোক
কাজ করে, তাদের বেতন দেই, সব মিলিয়ে আমার
পরিবার নিয়ে ভাল আছি।
তবে
উদ্যোক্তা নিজাম ব্যবসা পরিচালনায় কিছু চ্যালেঞ্জের কথাও তুলে ধরেন। তিনি জানান- আমাদের ছোট ব্যবসা, রাস্তার পাশে দোকান করি; কয় টাকা আর
কামাই কন! কিন্তু হঠাৎ করে গ্যাস,মুরগি,তেল,পেয়াজের দাম বাড়লে আমাদের কিনতে কষ্ট হয়। কেননা দাম বাড়লেও ক্রেতাদের নিম্নমানের খাবার দিতে পারি না। ফলে লাভের পরিমাণ অনেক কমে যায়। তাই সরকার যাতে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম কমায় এটাই চাই।
নিজামের
দোকানে খাবার খেতে আসা কয়েকজন ক্রেতা জানান- চিকেন টিক্কা ও কাবাবের স্বাদ
যেমন ভালো, তেমনি দামও সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে। মাত্র ১০ টাকায় বড়
আকারের চিকেন টিক্কা অন্য কোথাও পাওয়া কঠিন। খাবারের মান এবং সাশ্রয়ী দাম থাকায় প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ এই নিজামের দোকানে
টিক্কা, কাবাব খেতে আসেন।
উদ্যোক্তা
মো.নিজাম যেন ভোলার বেকার যুবকদের জন্য এক বাস্তব অনুপ্রেরণা।
নিজাম অল্প পুঁজিতে ব্যবসা শুরু করে কঠোর পরিশ্রম, সততা ও মানসম্মত সেবার
মাধ্যমে সফল হওয়ার উজ্জ্বল উদাহরণ স্থাপন করেছেন এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছেন। তার এই সাফল্যের গল্প
জেলার অনেক তরুণকে উদ্যোক্তা হওয়ার সাহস ও অনুপ্রেরণা জোগাবে।