জুলফিকার তালুকদার, চরফ্যাশন: ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার দক্ষিণ আইচা থানার চরমানিকা ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের রাড়ীর দোকান সংলগ্ন জুই আবাসন প্রকল্পের বেহাল পরিস্থিতি পরিদর্শন করেছেন উপজেলা ভূমি অফিসের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ এমদাদুল হক।
সোমবার (৩ আগস্ট) দুপুর ১টার দিকে তিনি আবাসন প্রকল্পটি পরিদর্শন করেন। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন ভূমি কর্মকর্তা কামেলেন্দু মজুমদার এবং চরমানিকা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী সিরাজুল ইসলাম সবুজ খান।
পরিদর্শনকালে এসিল্যান্ড আবাসন প্রকল্পটির বর্তমান অবস্থা সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন। এ সময় প্রকল্পের বিভিন্ন সমস্যা ও বাসিন্দাদের দুর্ভোগের বিষয়গুলো তার কাছে তুলে ধরেন সিরাজুল ইসলাম সবুজ খান।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ২০০১ সালের পর বিএনপি সরকারের সময়ে জুই আবাসন প্রকল্পটি গড়ে তোলা হয়। বর্তমানে প্রকল্পটিতে প্রায় ১১০টি পরিবার বসবাস করছে। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে প্রকল্পটির অবকাঠামো জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে।
বাসিন্দাদের অভিযোগ, পুরো আবাসন প্রকল্পে মাত্র একটি টয়লেট মোটামুটি ব্যবহারের উপযোগী রয়েছে। তিনটি টিউবওয়েলের মধ্যে কয়েকটি থেকে পানি তুলতেও ভোগান্তিতে পড়তে হয়। প্রকল্পের প্রবেশমুখ থেকে ভেতরের চলাচলের রাস্তা কাদা ও পিচ্ছিল হয়ে থাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই চলাচল কঠিন হয়ে পড়ে।
এ ছাড়া প্রকল্পের অধিকাংশ ঘরই জরাজীর্ণ ও ভেঙে পড়েছে। অনেক ঘরের দেয়ালও নেই। ফলে দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ ও মানবেতর পরিবেশে বসবাস করছেন এসব পরিবারের সদস্যরা।
সিরাজুল ইসলাম সবুজ খান বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আবাসন প্রকল্পটির সংস্কার না হওয়ায় প্রায় ১১০টি পরিবার চরম দুর্ভোগে রয়েছে। বাসিন্দাদের নিরাপদ আবাসন, সুপেয় পানি, স্যানিটেশন এবং চলাচলের উপযোগী রাস্তার ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে দ্রুত প্রকল্পটির সংস্কার ও সার্বিক উন্নয়ন প্রয়োজন।
পরিদর্শন শেষে সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ এমদাদুল হক জুই আবাসন প্রকল্পের রাস্তা সংস্কার, টিউবওয়েল সচল করা, টয়লেট নির্মাণ এবং জরাজীর্ণ ঘর সংস্কারসহ প্রকল্পটির সার্বিক উন্নয়নে সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
মন্তব্য করুন