জুলফিকার তালুকদার, চরফ্যাশন: ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার দক্ষিণ আইচা থানাধীন চর কচ্ছপিয়া ঘাট থেকে নদী পার হয়ে চর দীঘল বাগানে প্রবেশের কিছুক্ষণ পরই শুরু হয় এক ভিন্ন অভিজ্ঞতা। বাগানের ভেতরে প্রায় তিন কিলোমিটার এলাকাজুড়ে মোবাইল ফোনের কোনো নেটওয়ার্ক না থাকায় প্রায় ২০ মিনিট সম্পূর্ণ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় থাকেন লঞ্চযাত্রী ও পথচারীরা।
স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, চর দীঘলের দৈর্ঘ্য প্রায় ৩ কিলোমিটার এবং প্রস্থ প্রায় ২.৫ কিলোমিটার। বাগানের ভেতর দিয়ে নৌপথে চলাচলের সময় মোবাইল ফোনে কোনো কল করা যায় না, এমনকি ইন্টারনেট সংযোগও থাকে না। ফলে জরুরি মুহূর্তে পরিবারের সদস্য বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয় না।
স্থানীয়দের ধারণা, চর দীঘলের ঘন বনাঞ্চল এবং অত্যন্ত উঁচু গাছপালার কারণে আশপাশের মোবাইল ফোন টাওয়ারের সিগন্যাল বাগানের গভীরে পৌঁছাতে পারে না। এ কারণেই দীর্ঘদিন ধরে এলাকাটিতে ‘সিগন্যাল জিরো’ পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
তবে যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতার এই অভিজ্ঞতার মধ্যেও প্রকৃতিপ্রেমীদের কাছে চর দীঘল বাগান এক অপার সৌন্দর্যের স্থান। বাগানের মাঝ দিয়ে বয়ে যাওয়া খাল অতিক্রমের সময় দুই তীরের মধ্যে বন্য হরিণকে সাঁতার কেটে চলাচল করতে দেখা যায়। এমন মনোমুগ্ধকর দৃশ্য দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করে এবং এলাকাটিকে পর্যটনের জন্য আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে।
স্থানীয়রা আরও জানান, চর দীঘল বাগানের অপর পাশেই অবস্থিত চর কুকরী-মুকরী, যা প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও সমৃদ্ধ জীববৈচিত্র্যের জন্য দেশজুড়ে পরিচিত।
এদিকে এলাকাবাসীর দাবি, চর দীঘল বাগান এলাকায় দ্রুত মোবাইল নেটওয়ার্কের আওতা সম্প্রসারণে সংশ্লিষ্ট মোবাইল অপারেটর ও কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া উচিত। এতে যাত্রীদের নিরাপদ যোগাযোগ নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সহায়তা পাওয়াও সহজ হবে।
মন্তব্য করুন