মো মামুন হাজী লালমোহন : ভোলার লালমোহনে একটি মাছের খামারে বিষ প্রয়োগ করে মাছ নিধনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় প্রায় ৩ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন খামার মালিক মো. মিরাজ (৪৫)। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে তিনি লালমোহন থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার পশ্চিম চরউম্মেদ ইউনিয়নের কচুয়াখালী এলাকার ১ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো. মিরাজ দীর্ঘদিন ধরে এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে মাছ চাষ ও কৃষিকাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন। তার দাবি, পূর্ব বিরোধের জেরে একই বাড়ির নান্নু হাওলাদারের ছেলে মো. জসিম, মো. হাসান, মো. মাসুদ, সহ বাচ্চু হাওলাদার, আজিজ ডাক্তার ও রুসাত দীর্ঘ ২ বছর ধরে তার ক্রয়কৃত জমির বাগান হইতে সুপারি, পুকুর হইতে মাছ এবং বিভিন্ন গাছ কাটা সহ বিভিন্নভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করার চেষ্টা করে আসছেন।
লিখিত অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, গত (বুধবার ২৪ জুন) আনুমানিক ভোর ৬ টার দিকে অভিযুক্তরা তার বাড়ির সামনের পুকুরে গোপনে বিষ প্রয়োগ করে। পরে পুকুরে গিয়ে তিনি দেখতে পান মাছ পানির ওপর ভেসে উঠেছে। স্থানীয় লোকজন ও প্রত্যক্ষদর্শীরাও ঘটনাটি দেখতে পান বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী মিরাজের দাবি, বিষ প্রয়োগের ফলে তার পুকুরের প্রায় ৪ মণ মাছ মারা গেছে, যার বাজারমূল্য প্রায় ৩ লাখ টাকা। এতে তিনি আর্থিকভাবে মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
এ বিষয়ে তিনি আরো বলেন, আমি ঋণ নিয়ে মাছ চাষ করি। ওরা শুধু শুধু আমার সঙ্গে শত্রুতার করে পরিকল্পিতভাবে আমার পুকুরে বিষ দিয়েছে। এতে আমার ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। আমি প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের শাস্তির দাবি জানাই। তবে অভিযোগে যাদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে, তাদের সঙ্গে মুঠোফোনে মাধ্যমে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে তাদের মুঠোফোনটি বন্ধ থাকায় তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে লালমোহন থানার (এসআই) মো. নূর আমিন জানান, এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
স্থানীয়দের মতে, মাছের খামারে বিষ প্রয়োগের মতো ঘটনা শুধু একজন খামারির ক্ষতিই নয়, বরং এলাকার মৎস্যচাষের পরিবেশের জন্যও উদ্বেগজনক। তারা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন।