আমূল
বদলে যাচ্ছে বাংলাদেশের পাসপোর্ট। ভেতরের পাতায় পাতায় জলছাপে আসছে
পরিবর্তন। যুক্ত হচ্ছে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের তিন শহীদ আবু সাঈদ, মীর
মাহফুজুর রহমান মুগ্ধ ও ওয়াসিমের ছবি। পাশাপাশি আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে
বাদ দেয়া ‘ইসরায়েল ব্যতীত’ শব্দবন্ধ ফের পুনর্বহাল করা হচ্ছে পাসপোর্টে।
এ-সংক্রান্ত সরকারি আদেশ জারি করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
একটি
ছোট্ট বই পাসপোর্ট। বহন করে নাগরিকের সঙ্গে রাষ্ট্রের পরিচয়, কূটনীতির
বার্তা আর জাতীয় ইতিহাস। ছয় বছর আগে বাংলাদেশি পাসপোর্ট থেকে বাদ দেয়া হয়
‘এই পাসপোর্ট বিশ্বের সব দেশের জন্য বৈধ, ইসরায়েল ব্যতীত’। নতুন সরকারি
আদেশে পাসপোর্টে আবারও ফিরছে বহুল আলোচিত ‘ইসরায়েল ব্যতীত’ শব্দবন্ধ।
বাংলাদেশের
দীর্ঘদিনের পররাষ্ট্রনীতি এবং ফিলিস্তিন ইস্যুতে সরকারের অবস্থানের সঙ্গে
সামঞ্জস্য রেখেই এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে, যা সাধুবাদ জানিয়ে সাধারণ মানুষ
বলেন, সরকারের পদক্ষেপটি ভালো হয়েছে। এটাই হওয়া উচিত। একজন মুসলিম দেশের
নাগরিক হিসেবে ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক না থাকাই উচিত। যদি আমাকে
ইসরায়েলের পক্ষে সমর্থন করতে বলা হয়, তাহলে একজন মুসলিম হিসেবে আমি তা
সমর্থন করা উচিত মনে করি না। প্রতিটি বাঙালি ও মুসলিম হিসেবে আমাদের আগের
নিয়মটিই বহাল থাকা উচিত।
শুধু
শব্দবন্ধ নয়, বদলাচ্ছে ই-পাসপোর্টের ভিজ্যুয়াল পরিচয়ও। নতুন জলছাপে জায়গা
পাচ্ছে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের তিন শহীদ—রংপুরে দুই হাত প্রসারিত করে
দাঁড়িয়ে থাকা আবু সাঈদ, উত্তরায় পানি হাতে থাকা মুগ্ধ এবং জাতীয় পতাকার
জার্সি পরা ওয়াসিমের ছবি। এছাড়া জাতীয় প্রতীক, ঐতিহাসিক স্থাপনা ও বিভিন্ন
ধর্মীয় স্থাপনার নতুন বিন্যাস যুক্ত হচ্ছে।
পাসপোর্টের
নতুন জলছাপ বিষয়ে সাধারণ নাগরিকেরা জানান, এখন যেহেতু প্রজন্মের পরিবর্তন
হচ্ছে, তাই ধীরে ধীরে নতুন প্রজন্মকেও এসব বিষয়ে জানাতে হবে। আবার ১৯৭১
সালের ইতিহাসও যেন আমরা ভুলে না যাই, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে। আমার কাছে
মনে হয়, গণ-অভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশে যে পরিবর্তন এসেছে এবং ভবিষ্যতে যেন
আর কোনো ফ্যাসিস্ট সরকার না আসে, সে বিষয়ে এটি একটি প্রতীক হিসেবে কাজ
করবে। এই তথ্যগুলো যদি আমরা পাসপোর্টের মাধ্যমে তুলে ধরতে পারি, তাহলে হয়তো
পরবর্তী প্রজন্ম বিষয়গুলো আরও ভালোভাবে জানতে পারবে।
দীর্ঘ
কর্তৃত্ববাদী শাসনব্যবস্থার পতনের পর সরকারের পররাষ্ট্রনীতির বার্তা এবং
বিশ্ববাসীর মাঝে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকে তুলে ধরার সুন্দর প্রয়াস উল্লেখ করে
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক কাজী মোহাম্মাদ
মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘বিএনপি সরকার যদি পুরোনো সেই প্রতীকগুলো, অর্থাৎ
‘ফ্যাসিবাদী প্রতীক’ ও ‘কর্তৃত্ববাদী প্রতীক’ মুছে, দূর করে বা বাদ দিয়ে
আমাদের গণ-অভ্যুত্থানের শক্তির প্রতীক, গণতন্ত্রের প্রতীক এবং বাংলাদেশের
মানুষের প্রতীকগুলো ব্যবহার করে, তাহলে অবশ্যই আমি এটিকে সাধুবাদ জানাই।’
তবে পুরোনো পাসপোর্টধারীদের জন্য তাৎক্ষণিক কোনো পরিবর্তন নেই। মেয়াদ শেষে নবায়নের সময় নতুন সংস্করণের পাসপোর্ট দেয়া হবে।