মো:মেহেদী হাসান, মনপুরা: ভোলার মনপুরায় টানা বর্ষণ, উজানের ঢল ও জোয়ারের প্রভাবে মেঘনা নদীর পানি বিপদসীমার ২৯ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে উপজেলার বেড়িবাঁধের বাইরের নিম্নাঞ্চল ও চরাঞ্চল ৩ থেকে ৪ ফুট জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হয়েছে। টানা বৃষ্টি ও জোয়ারের দ্বিমুখী চাপে বিস্তীর্ণ এলাকায় তীব্র জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার পাশাপাশি উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নের অন্তত ২০টি গ্রামের প্রায় ২০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
বুধবার (৮ জুলাই) দুপুর পর্যন্ত উপজেলায় থেমে থেমে বৃষ্টি অব্যাহত ছিল। গত চার দিনের টানা বর্ষণে বিভিন্ন এলাকায় পানি জমে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। পাশাপাশি বিচ্ছিন্ন চরাঞ্চল চরকলাতলী, ডালচর ও কাজীর চর ৩ থেকে ৪ ফুট জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ডিভিশন-২-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আসাফউদ্দৌলা জানান, মেঘনা নদীর পানি বর্তমানে বিপদসীমার ২৯ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। টানা বর্ষণ ও অতিরিক্ত জোয়ারের কারণে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং পানি নিষ্কাশনের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।
বুধবার সরেজমিনে দেখা গেছে, আকস্মিক পানি বৃদ্ধিতে শত শত বসতঘরে পানি ঢুকে পড়েছে। অনেক পরিবারের রান্নাঘর তলিয়ে যাওয়ায় রান্নাবান্না ব্যাহত হচ্ছে। দেখা দিয়েছে খাবার ও সুপেয় পানির সংকট। এছাড়া শত শত একর রোপা আমনের বীজতলা ও বিভিন্ন ধরনের শাকসবজির খেত পানিতে তলিয়ে গেছে। দীর্ঘ সময় পানি জমে থাকলে এসব ফসল নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা করছেন কৃষকেরা।
অন্যদিকে বিভিন্ন এলাকার মাছের ঘের ও পুকুর প্লাবিত হওয়ায় মৎস্যচাষিরাও বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, টানা বৃষ্টি ও জোয়ারের পানিতে অনেক পরিবার ঘরের ভেতর আটকা পড়ে আছে। রাস্তাঘাট তলিয়ে যাওয়ায় স্বাভাবিক যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। উপকূলের বিভিন্ন এলাকায় ২ থেকে ৩ ফুট পানি জমে থাকায় দিনমজুর ও খেটে খাওয়া মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। অনেক হাট-বাজারে স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় কাজে মানুষ ঘর থেকে বের হতে পারছেন না।
স্থানীয়দের অভিযোগ, পর্যাপ্ত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা নিশ্চিত না করেই চারপাশে বেড়িবাঁধ নির্মাণ করায় জলাবদ্ধতা আরও প্রকট হয়েছে। দ্রুত খাল-নালা সংস্কার এবং কার্যকর পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রশাসন জানায়, পানিবন্দি মানুষের খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি ক্ষয়ক্ষতির তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং দুর্গত মানুষের জন্য জরুরি ত্রাণ সহায়তার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
মন্তব্য করুন