মেহেদী হাসান, মনপুরা: ভোলার মনপুরায় মসজিদের উন্নয়নকাজের হিসাব নিয়ে প্রশ্ন তোলাকে কেন্দ্র করে আবদুস জাহের (৪০) নামে এক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষককে মসজিদের ভেতরে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় শিক্ষক ও স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার দক্ষিণ সাকুচিয়া ইউনিয়নের পচাকোড়ালিয়া বেড়িবাঁধসংলগ্ন একটি মসজিদে এ ঘটনা ঘটে।
আহত শিক্ষক আবদুস জাহের উপজেলার ৪১ নম্বর দক্ষিণ রহমানপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সিনিয়র সহকারী শিক্ষক। তিনি রহমানপুর গ্রামের বাসিন্দা।
জানা গেছে, শুক্রবার জুমার নামাজের পর মসজিদ কমিটির সভাপতি শাহে আলম উন্নয়নকাজের ব্যয়ের হিসাব উপস্থাপন করছিলেন। এ সময় কাজের পরিমাণ ও ব্যয় নিয়ে প্রশ্ন করেন অন্য মুসল্লীরা। পরে তাদের সঙ্গে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে শিক্ষক আবদুস জাহের ও তাঁর দুই ছেলের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এতে তিনি রক্তাক্ত হন এবং তাঁর পরনের পাঞ্জাবি ছিঁড়ে যায়।
শিক্ষক আবদুস জাহের অভিযোগ করেন, স্থানীয় বিল্লাল হোসেনের নেতৃত্বে কয়েকজন মুসল্লী মসজিদের ভেরতে তাঁদের ওপর চড়া হন এবং হামলা করেন। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
মসজিদ কমিটির সভাপতি শাহে আলম বলেন, জাহের মাস্টার মসজিদের নিয়মিত মুসল্লি। মসজিদের উন্নয়নকাজের হিসাব দেওয়ার সময় কয়েকজন মুসল্লীদের সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয়। পরে এক পর্যায়ে তারা শিক্ষকের উপর হামলা করেন। যা মোটেও কাম্য ছিলো না, এ ঘটনায় আমরা লজ্জিত ও অনুতপ্ত।
মনপুরা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আশরাফ হোসেন বলেন, "শিক্ষকের ওপর হামলার অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খান সালমান হাবীব বলেন, "লিখিত অভিযোগ পেলে বিষয়টি খতিয়ে দেখে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
মনপুরা থানার ওসি মাজাহারুল ইসলাম বলেন, "এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
মন্তব্য করুন