কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের তৎপরতা ঠেকাতে নজরদারি বাড়িয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, আটক এড়াতে দলটির কিছু নেতাকর্মী যোগাযোগের মাধ্যম পরিবর্তন করেছেন। একই সঙ্গে আত্মগোপনে থাকা অনেক নেতা ঢাকায় অবস্থান করে বিভিন্ন পেশার আড়ালে চলাফেরা করছেন বলে তথ্য পেয়েছেন গোয়েন্দারা।
সংশ্লিষ্ট গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের দাবি, আগে জুম ও হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে বৈঠক করলেও আওয়ামী লীগের কিছু নেতা এখন বিদেশি নম্বর ব্যবহার করে টেলিগ্রামে যোগাযোগ করছেন। এসব যোগাযোগ শনাক্ত ও সংশ্লিষ্টদের অবস্থান বের করতে কাজ করছেন গোয়েন্দারা।
তাদের ভাষ্য, গত কয়েক মাসে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের তৎপরতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ঝটিকা মিছিল, ককটেল বিস্ফোরণ ও অগ্নিসংযোগের মতো ঘটনাও ঘটেছে। গত ১১ সেপ্টেম্বর গুলশানে আওয়ামী লীগের কয়েকশ নেতাকর্মীর মিছিলের সময় ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এরপর ওই ঘটনায় ধারাবাহিক গ্রেপ্তার অভিযান চালায় পুলিশ।
গোয়েন্দা সূত্র বলছে, এসব কর্মকাণ্ডের পেছনে কারা নির্দেশনা ও অর্থের জোগান দিচ্ছে, তা শনাক্তের চেষ্টা চলছে। আটক ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যও যাচাই করা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
গোয়েন্দাদের দাবি, গ্রাম ছেড়ে আওয়ামী লীগের অনেক নেতাকর্মী বর্তমানে ঢাকায় অবস্থান করছেন। তাদের কেউ কেউ রাইড শেয়ারিং ও অটোরিকশা চালাচ্ছেন বলেও তথ্য পাওয়া গেছে। ঢাকায় সম্প্রতি বাইরের জেলার মোটরসাইকেলের সংখ্যা বেড়েছে কি না, এসব মোটরসাইকেল কোন রুটে চলছে এবং চালকদের কেউ রাজনৈতিক কর্মসূচিতে যুক্ত কি না- তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
সম্প্রতি রাজধানীর গুলশানে একটি মিছিলের বিষয়ে পুলিশ খুব অল্প সময় আগে তথ্য পাওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়নি বলেও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান। তাদের ভাষ্য, মিছিল শুরুর প্রায় ১০ মিনিট আগে তথ্য পাওয়া যায়। পরে রিজার্ভ ফোর্স ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও মিছিলকারীদের সংখ্যা বেশি থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে সবাইকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
এরপর থেকে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের পাশাপাশি এলাকাভিত্তিক তালিকা তৈরির ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। পুলিশ, ডিবি ও মাঠপর্যায়ের গোয়েন্দারা এ কাজে যুক্ত রয়েছেন।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলেন, শুধু মিছিলের সময় উপস্থিত ব্যক্তিদের শনাক্ত নয়, এর পেছনে থাকা যোগাযোগ, অর্থের উৎস, নির্দেশদাতা ও মাঠপর্যায়ের সংগঠকদেরও শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।
পুলিশ সদর দপ্তরের ক্রাইম অ্যান্ড অপস বিভাগের অতিরিক্ত আইজিপি সায়েদুর রহমান বলেন, যারা সন্ত্রাস করছে, তাদের নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে পুলিশ বেকায়দায় পড়বে। ফলে তালিকা করা হচ্ছে। এটি নিয়মিত করতেই হয়। তালিকা তৈরির কাজ চলমান আছে।
মন্তব্য করুন