মো. মেহেদী হাসান, মনপুরা প্রতিনিধি: একদিকে মেঘনার উত্তাল স্রোত, অন্যদিকে নদীভাঙনে প্রতিদিন বিলীন হচ্ছে মানুষের বসতভিটা ও স্থাপনা। বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা ভোলার মনপুরার ৫ নম্বর কলাতলী ইউনিয়নের মানুষের কাছে নদীভাঙন এখন নিত্যদিনের আতঙ্ক।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) ইউনিয়নের মিয়া জমির শাহ বাজারের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব পাশে মেঘনার তীব্র স্রোতে ভাঙনের মুখে পড়েছে হাজী আব্দুল কাদের মুন্সী মাদ্রাসা-মসজিদ ও ৩ নম্বর আবাসন এলাকা। যেকোনো সময় ভাঙন আরও তীব্র হয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও বসতভিটা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
এ অবস্থায় চরফ্যাশন-মনপুরার সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম নয়নের নির্দেশনায় স্থানীয় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন কলাতলী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী জোবায়ের হাসান রাজিব চৌধুরী। ভাঙন ঠেকাতে তাৎক্ষণিক প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা হিসেবে তিনি ৩৫০টি জিও ব্যাগ দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছেন।
স্থানীয় জেলেদের ও বাসিন্দাদের ভাষ্য, মেঘনার তীব্র স্রোতে প্রতিদিনই তীরের মাটি নদীতে বিলীন হচ্ছে। দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া না হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে মাদ্রাসা-মসজিদ ও আবাসন এলাকার মানুষ রয়েছেন চরম উদ্বেগের মধ্যে।
জোবায়ের হাসান রাজিব চৌধুরী বলেন, “রাজনীতি আমার কাছে শুধু নির্বাচন কিংবা পদ-পদবির বিষয় নয়; মানুষের বিপদের সময় পাশে দাঁড়ানোই সবচেয়ে বড় দায়িত্ব। চর কলাতলীর মানুষ নদীভাঙনের সঙ্গে প্রতিনিয়ত যুদ্ধ করছেন। আজ যে মাদ্রাসা-মসজিদ ও আবাসন এলাকা ভাঙনের মুখে পড়েছে, কাল হয়তো আরও অনেক পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাই সময় নষ্ট না করে ৩৫০টি জিও ব্যাগ দিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ভাঙন প্রতিরোধের উদ্যোগ নিয়েছি।”
তিনি আরও বলেন, “চরফ্যাশন-মনপুরার সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম নয়নের নির্দেশনা ও সহযোগিতায় এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মানুষের জানমাল রক্ষায় প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত রাখার চেষ্টা করব। তবে জিও ব্যাগ দিয়ে সাময়িকভাবে ভাঙন ঠেকানো সম্ভব হলেও স্থায়ী সমাধানের জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।”
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, নদীভাঙনের কারণে তারা সবসময় আতঙ্কের মধ্যে থাকেন। কখন ঘরবাড়ি কিংবা গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা নদীগর্ভে চলে যায়, সেই আশঙ্কায় দিন কাটে তাদের। জিও ব্যাগ দেওয়ার উদ্যোগে সাময়িক স্বস্তি মিললেও তারা ভাঙন সমস্যার স্থায়ী সমাধান চান।
এক বাসিন্দা বলেন, “মাদ্রাসা-মসজিদ আমাদের জন্য শুধু একটি ভবন নয়, এটি এলাকার মানুষের ধর্মীয় ও সামাজিক জীবনের সঙ্গে জড়িত। এটি ভেঙে গেলে আমাদের বড় ক্ষতি হবে। আবাসন এলাকার মানুষও আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।”
স্থানীয়দের দাবি, জিও ব্যাগ ফেলার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে টেকসই বাঁধ ও নদীতীর সংরক্ষণ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। কারণ প্রতিবছর নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে অনেক পরিবারকে নতুন করে জীবন শুরু করতে হয়।
তাদের মতে, ৩৫০টি জিও ব্যাগ এই মুহূর্তে শুধু বালুর বস্তা নয়; ভাঙনের মুখে থাকা মানুষের ঘরবাড়ি, মাদ্রাসা-মসজিদ ও নিরাপত্তা রক্ষার একটি তাৎক্ষণিক আশার প্রতীক। তবে স্থায়ী সমাধানের জন্য দ্রুত কার্যকর সরকারি উদ্যোগ প্রয়োজন।
মন্তব্য করুন