মো. মেহেদী হাসান, মনপুরা: ভোলার মনপুরা উপজেলার একটি গুচ্ছগ্রামের ভেঙে যাওয়া বেড়িবাঁধ পাঁচ দিন পার হলেও এখনো সংস্কার করা হয়নি। ফলে প্রতিটি জোয়ারে মেঘনার উজানের পানি ভাঙা অংশ দিয়ে প্রবেশ করে প্লাবিত হচ্ছে পুরো গ্রাম। এতে অন্তত ৬০টি পরিবার পানিবন্দী হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, জোয়ার না থাকলে গ্রামটি স্বাভাবিক ও শুকনো দেখা যায়। তবে কয়েক ঘণ্টা পর উজানের জোয়ারের পানি ভাঙা বেড়িবাঁধ দিয়ে প্রবেশ করে পুরো এলাকা তলিয়ে যায়। তখন জীবন বাঁচাতে পরিবারগুলো ঘরবাড়ি ছেড়ে বেড়িবাঁধের ওপর খোলা আকাশের নিচে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়।
বাসিন্দারা জানান, একসময় যে ঘরগুলো ছিল তাদের নিরাপদ আশ্রয়, এখন সেগুলোতেই হাঁটু থেকে কোমরসমান পানি জমে থাকে। রান্নাঘর, শোবার ঘর ও উঠান দিনের পর দিন জোয়ারের পানিতে তলিয়ে থাকায় শিশু, নারী ও বৃদ্ধদের নিয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন তারা।
পানিবন্দী অবস্থার পাশাপাশি দেখা দিয়েছে বিষধর সাপের আতঙ্কও। আশ্রয়ের খোঁজে সাপ ঘরে ঘরে ঢুকে পড়ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। ফলে সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে দিন-রাত উৎকণ্ঠায় রয়েছেন অভিভাবকেরা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ভেঙে যাওয়া বেড়িবাঁধটি দ্রুত সংস্কার করা হলে এই দুর্ভোগ অনেকটাই কমানো সম্ভব হতো। কিন্তু পাঁচ দিন অতিবাহিত হলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো সংস্কারকাজ শুরু হয়নি। ফলে প্রতিটি জোয়ারের সঙ্গে নতুন করে প্লাবিত হচ্ছে গ্রামটি এবং বাড়ছে মানুষের দুর্ভোগ।
এদিকে পানিবন্দী থাকার কারণে ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। অনেকেই কাজে যেতে পারছেন না, শিশুদের লেখাপড়াও বিঘ্নিত হচ্ছে। পাশাপাশি নিরাপদ খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সংকট দিন দিন প্রকট আকার ধারণ করছে।
দুর্ভোগ থেকে রক্ষা পেতে অবিলম্বে ভেঙে যাওয়া বেড়িবাঁধ সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। তাদের আশঙ্কা, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে প্রতিদিনের এই দুর্ভোগ আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করবে।
এ বিষয়ে মনপুরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু মুছা বলেন, "গুচ্ছগ্রামের ভেঙে যাওয়া বেড়িবাঁধ দ্রুত সংস্কারের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। অতি শিগগিরই সংস্কারকাজ শুরু করা হবে, যাতে জোয়ারের পানি প্রবেশ বন্ধ করে এলাকাবাসীর দুর্ভোগ লাঘব করা যায়।"
মন্তব্য করুন