মেহেদী হাসান, মনপুরা; ভোলার মনপুরায় মডেল মসজিদের ভেতরে এশার নামাজ আদায় শেষে হাদিসের তালিম চলাকালে মো. মহিউদ্দিন মিয়া (৪৯) নামের এক কলেজ অধ্যক্ষকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ৮ জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাতনামা ১৫ থেকে ২০ জনকে আসামি করে একটি এজাহার দায়ের করা হয়েছে।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) রাত আনুমানিক ৯টার দিকে উপজেলা মডেল মসজিদের ভেতরে এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী অধ্যক্ষ মো. মহিউদ্দিন মনোয়ারা বেগম মহিলা কলেজের প্রতিষ্ঠাকালীন অধ্যক্ষ এবং বর্তমানে ভোলা নাজিউর রহমান কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রোববার রাতে এশার নামাজ শেষে মসজিদে বসে হাদিসের তালিম শুনছিলেন অধ্যক্ষ মহিউদ্দিন মিয়া। এ সময় হঠাৎ স্থানীয় মো. সেলিম ও তার ভাই মো. রুবেলসহ কয়েকজন মিলে দেশীয় লাঠি নিয়ে মসজিদের ভেতরে প্রবেশ করে অধ্যক্ষকে এলোপাতাড়ি মারধর শুরু করেন। এসে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয় মুসল্লিরা এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠান।
অধ্যক্ষ মহিউদ্দিন মিয়া অভিযোগ করে বলেন, অভিযুক্ত সেলিম মনোয়ারা বেগম মহিলা কলেজে নৈশপ্রহরী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। কর্মরত থাকাকালীন সঠিক দায়িত্ব পালন না করায় এবং শিক্ষকদের সঙ্গে অসদাচরণ করায় বরিশাল বোর্ড তাকে চাকুরী থেকে অব্যাহতি দেয়। এতে সে তার পরিবার ক্ষিপ্ত হয়ে আমাকে হত্যার হুমকি দেয়। এতে আমি মনপুরা থানায় দুইটি সাধারণ ডায়েরি করি।
তিনি আরও জানান, গতকাল নামাজ শেষে আমি মসজিদে অবস্থান করছিলাম। এ সময় সেলিম ও তার ভাই রুবেলসহ কয়েকজনের একটি দল পূর্বপরিকল্পিতভাবে আমার ওপর হামলা চালায়। তারা দেশীয় লাঠিসোঁটা নিয়ে আমাকে এলোপাতাড়ি মারধর করে। এতে আমি গুরুতর আহত হই। এ ঘটনায় তিনি অভিযুক্তদের কঠিন শাস্তির দাবি জানান।
মসজিদে উপস্থিত স্থানীয় কয়েকজন মুসল্লি জানান, এশার নামাজ শেষে তারা হাদিসের তালিম শুনছিলেন। এ সময় সেলিম ও রুবেল মসজিদের ভেতরে প্রবেশ করে অধ্যক্ষ মহিউদ্দিনকে মারধর শুরু করেন। তারা বাধা দিতে গেলে তাদের ওপরও হামলার চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ করেন মুসল্লিরা।
তবে হামলার অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত মো. সেলিম ও মো. রুবেলের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
মনপুরা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাজহারুল ইসলাম বলেন, এঘটনায় ৮ জনকে আসামি করে থানায় একটি এজাহার দায়ের করা হয়েছে। আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খান সালমান হাবিব বলেন, “অধ্যক্ষ মো. মহিউদ্দিন অভিযোগ দায়ের করলে বিষয়টি তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
মন্তব্য করুন