কর্মজীবী
নারীদের ভোগান্তি নিরসনে রাজধানীতে চালু হয়েছে গোলাপি রঙের বাস। গেল ১৮
আগস্ট নারীদের জন্য এই বিশেষ বাস চালুর পর উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন চালক ও
যাত্রীরা। তবে সেই উচ্ছ্বাস স্থায়ী হয়নি। বাস চালুর প্রথম দিনেই একটি
গাড়িকে ধাক্কা দেয় অন্য আরেকটি পরিবহন।
রাজধানীর
বিশৃঙ্খল সড়কে দোতলা বাস চালাতে যে প্রস্তুতি প্রয়োজন, তা নেই উল্লেখ
করেছেন নারী বাসচালকরা। তাছাড়া সঠিক কর্মপরিকল্পনা ছাড়া সড়কে নামায়
অস্বস্তিতে পড়ছেন নারী চালকরা।
তাদের দাবি, শরীরটার সঙ্গে এই বাস যায় না।
এ নিয়ে এক নারী চালক বলেন, ‘এই দোতলা বাস একজন নারীর দ্বারা চালানো সম্ভব না। আমি পারছি না। আমার শরীরটার সঙ্গে এই বাসটা যায় না।’
তিনি
বলেন, ‘নারী ড্রাইভার হিসেবে আমরা খুশি না। কারণ, সড়কে বিশৃঙ্খল অবস্থা।
অন্য বাস চাপ দেয়। আমি তো ওর মতো চালাব না, আমি আমার মতো চালাব। কিন্তু আমি
যদি ওদের মত ঠাসাঠাসি করি, তাহলে তো হলো না।’
বাসের
একজন নারী হেলপার বলেন, ‘মহিলা যারা উঠছেন, তারা প্রশংসা করছেন। আগে তারা
অফিস টাইমে গাড়ি ধরতে পারতেন না। ছেলেদের মধ্যে ধাক্কা খেতে হতো। ঠিক সময়ে
অফিসে যেতে কষ্ট হতো। এখন তারা স্বস্তিতে যেতে পারছে।’
এদিকে
রাজধানীর বিভিন্ন স্থান ঘুরে দেখা গেছে, গোলাপি রঙের বাসের জন্য অপেক্ষা
করছেন নারীরা। দিনে মাত্র দুটি ট্রিপ থাকায় বিপাকে পড়তে হচ্ছে তাদের।
দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করেও মিলছে না কাঙ্ক্ষিত বাস। কখন আসবে, তা জানেন না
অধিকাংশ নারী।
পিংক
বাস সার্ভিস আরও বাড়ানোর দাবি জানিয়ে একাধিক যাত্রী বলেন, ‘আমাদের জন্য যে
বাস ছাড়া হয়েছে, তার একটিও তো দেখলাম না। যাতায়াত করতে হবে আগে-পরে। তো
সেটা আমরা কীভাবে করব? আমরা তো করতে পারতেছি না। আমাদের দুইটি ট্রিপেই তো
সমস্যা। ট্রিপের সংখ্যা যদি আর একটু বেশি হতো, তাহলে আমাদের জন্য অনেক ভালো
হতো।’
এসব
বিষয়ে বিআরটিসির চেয়ারম্যানের অফিসে গেলেও সাক্ষাৎ পাওয়া যায়নি। তবে
মুঠোফোনে আব্দুল লতিফ মোল্লা জানান, ‘মহিলা চালক যেহেতু, সে তো আর পুরুষের
মতো পারবে না—এটাই স্বাভাবিক। মহিলা চালক বাড়ানোর কার্যক্রমটা আছে।
সার্ভিসগুলো পরিবর্তন হবে আমাদের যাত্রী চাহিদার ওপর ভিত্তি করে।’
তবে নারীদের জন্য সংরক্ষিত বাসের সংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে রাজধানীর সড়কের শৃঙ্খলাও ফিরবে-এমনটাই সবার প্রত্যাশা।