গত ১৬ এপ্রিল, বৃহস্পতিবার। বিকেল ৫টা ৩ মিনিটে রংপুরের শাবেরীন সিদ্দিকীর মুঠোফোনে ইংরেজিতে লেখা একটি এসএমএস আসে। তাতে বলা হয়, সিজিপিএর ভিত্তিতে তিনি ‘ব্র্যাক স্কুল’-এ প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। শিগগিরই তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হবে, পরে ৩৫০ টাকা রেজিস্ট্রেশন ফি দিতে হবে।
কিন্তু এ সংক্রান্ত কোনো নিয়োগ পরীক্ষাতেই বসেননি শাবেরীন। গত বছর অনলাইনে একটি বিজ্ঞপ্তি দেখে আবেদন করেছিলেন, সঙ্গে জমা দিয়েছিলেন সব সনদের স্ক্যান কপি। এরপর অনেক দিন কোনো খবর ছিল না। তাই এসএমএসটি পেয়ে তিনি ধরে নিয়েছিলেন, চাকরিটা বোধহয় পেয়ে যাচ্ছেন।
পরের ১৭ দিনে চার দফায় তার কাছ থেকে নেওয়া হয় প্রায় ১৩ হাজার টাকা। কখনো রেজিস্ট্রেশন, কখনো পুলিশ ভেরিফিকেশন, কখনো ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বা ল্যাপটপের নামে। প্রতিবার টাকা দেওয়ার আগে বা পরে তার হাতে এসেছে দাফতরিক চেহারার কোনো না কোনো কাগজ। পঞ্চম দফায় বলা হয়, ল্যাপটপ কাস্টমসে আটকে আছে, ছাড়াতে আরও ৯ হাজার টাকা লাগবে। এবার সন্দেহ হলে শাবেরীন নিজেই ব্র্যাকের একটি কার্যালয়ে যান। সেখানে গিয়ে জানতে পারেন, পুরো নিয়োগপ্রক্রিয়াটাই ভুয়া।
রিউমর স্ক্যানার ইনভেস্টিগেশন ইউনিটের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, শাবেরীন যে বিজ্ঞপ্তি দেখে আবেদন করেছিলেন, সেটি প্রকাশ করা হয়েছে school.bracedu.net নামের একটি ওয়েবসাইটে। ব্র্যাকের নাম, লোগো ও শীর্ষ কর্মকর্তাদের ছবি ব্যবহার করে বানানো এই সাইটে তিনটি পদে ১ হাজার ১৯০ জনকে নিয়োগ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। আবেদন ফরমে চাওয়া হয়েছে জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর, মা-বাবার নাম, ঠিকানা আর সব সনদের স্ক্যান কপি। ব্র্যাক বলছে, এই সাইটের সঙ্গে তাদের কোনো সম্পর্ক নেই এবং নিয়োগের কোনো ধাপেই তারা টাকা নেয় না।
অনুসন্ধানে আরও দেখা গেছে, সাইটের ‘ডোনেট’ পেজে অনুদানের জন্য যে নগদ নম্বর দেওয়া আছে, শাবেরীনের চার দফার টাকা গেছে সেই নম্বরেই। একই পেজে বিদেশি অনুদানের জন্য দেওয়া হয়েছে হংকংভিত্তিক একটি ক্রিপ্টো পেমেন্ট সেবার কার্ড নম্বর, পাশে ব্র্যাক ব্যাংকের সুইফট কোডের আদলে বানানো একটি কোড। আর শাবেরীনের কাছে আসা এসএমএসটি হুবহু একই ভাষায় সেপ্টেম্বরেও অন্য নম্বর থেকে চাকরিপ্রার্থীদের কাছে গেছে। ব্র্যাকের সতর্কবার্তার পরও এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত সাইটটি সচল রয়েছে।
মন্তব্য করুন