মো. মেহেদী হাসান, মনপুরা: ভোলার মনপুরায় নিষিদ্ধ চাই জাল ব্যবহার করে অবাধে পাঙ্গাশের পোনা শিকার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে একদিকে যেমন নদীর প্রাকৃতিক মৎস্যসম্পদের ক্ষতি হচ্ছে, অন্যদিকে ভবিষ্যতে পাঙ্গাশ মাছের উৎপাদন কমে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) সকালে উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজার ঘুরে দেখা যায়, বিপুল পরিমাণ পাঙ্গাশের পোনা প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এসব পোনা মেঘনা নদী থেকে শিকার করে বাজারে আনা হচ্ছে।
একাধিক মৎস্য ব্যবসায়ীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, উপজেলার ১ নম্বর মনপুরা ইউনিয়নের মাছঘাট এলাকার কিছু অসাধু জেলে নিষিদ্ধ চাই জাল ব্যবহার করে মেঘনা নদী থেকে পাঙ্গাশের পোনা সংগ্রহ করছেন। পরে সেগুলো স্থানীয় বাজারসহ বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করা হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, এভাবে নির্বিচারে পোনা শিকার চলতে থাকলে ভবিষ্যতে নদীতে পাঙ্গাশ মাছের উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে। তারা দ্রুত এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা উজ্জ্বল বণিক বলেন, “মনপুরা ইউনিয়নের কিছু অসাধু জেলে চাই জালের মাধ্যমে পাঙ্গাশের পোনা শিকার করছে। বিষয়টি বন্ধে আমরা একাধিকবার অভিযান পরিচালনা করেছি। তবে জনবল ও স্পিডবোট সংকটের কারণে সবসময় কার্যকরভাবে অভিযান চালানো সম্ভব হয় না।”
তিনি আরও বলেন, “আগে জেলেরা নদীতে চাই জাল বসানোর স্থান চিহ্নিত করে রাখত। বর্তমানে তারা কোনো দৃশ্যমান চিহ্ন ব্যবহার না করে জিপিএস ট্র্যাকার ব্যবহার করছে। ফলে মাঝনদীতে বসানো চাই জাল শনাক্ত করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে।”
মৎস্য কর্মকর্তা জানান, অবৈধ জাল ব্যবহার করে মাছের পোনা শিকার করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। মৎস্যসম্পদ রক্ষায় নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে এবং এ ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ অব্যাহত থাকবে।
মৎস্য বিশেষজ্ঞদের মতে, পাঙ্গাশের পোনা নির্বিচারে নিধন বন্ধ করা না গেলে নদীর প্রাকৃতিক মৎস্যসম্পদ মারাত্মক হুমকির মুখে পড়বে। তাই মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কঠোর নজরদারি ও আইন প্রয়োগের দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।
মন্তব্য করুন