নিজস্ব প্রতিবেদক, ভোলা: মেঘনা নদীর অতিজোয়ারে প্লাবিত হয়েছে ভোলার উপকূলীয় বিস্তীর্ণ জনপদ। পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন অন্তত ১৫ গ্রামের হাজারো মানুষ। গত কয়েকদিন ধরে উজানের পানির চাপ, অমাবস্যার প্রভাব এবং টানা বৃষ্টিতে ভোলা সদর, দৌলতখান, মনপুরা ও চরফ্যাশন উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয়রা।
জানা গেছে, উজানের পানির চাপ ও অমাবস্যার প্রভাবে মেঘনার পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করে নিম্নাঞ্চলে প্রবেশ করেছে। পাশাপাশি টানা বর্ষণে বিভিন্ন এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে অস্থায়ী জলাবদ্ধতা। এতে দুর্গত এলাকায় দেখা দিয়েছে খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির সংকট।
তবে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অন্যদিনের তুলনায় শুক্রবার (১৭ জুলাই) থেকে পানির চাপ কিছুটা কমতে শুরু করেছে।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে মনপুরা উপজেলা। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের নিচু এলাকার বসতঘর, কাঁচা সড়ক, মাছের ঘের ও কৃষিজমি পানিতে তলিয়ে গেছে। অনেক এলাকায় ঘরে দুই থেকে তিন ফুট পর্যন্ত পানি ঢুকে পড়ায় পরিবারগুলো নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে ছুটছেন।
পানিবন্দি মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়েছে। রান্না-বান্না, বিশুদ্ধ পানির সংকট এবং যাতায়াত ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। দিনমজুর ও নিম্নআয়ের মানুষের কাজ বন্ধ থাকায় অনেক পরিবার মানবিক সংকটে পড়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, টেকসই বেড়িবাঁধ ও কার্যকর পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা না থাকায় প্রায় প্রতি বছরই একই ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়। তারা দ্রুত স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণ, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের জন্য পর্যাপ্ত ত্রাণ সহায়তা এবং পুনর্বাসনের দাবি জানিয়েছেন।
ভোলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. হাসানুজ্জামান বলেন, "উজানের পানির চাপ ও জোয়ারের কারণে নদীর পানি নিম্নাঞ্চলে প্রবেশ করেছে। আগামী দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে পানি কমে যাবে। তখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে বলে আশা করছি।"
এদিকে আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, লঘুচাপের প্রভাবে দেশের চার সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত বহাল রয়েছে। এর প্রভাবে নদ-নদীর পানি উত্তাল রয়েছে।
ভোলা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সজল কুমার দাস বলেন, "ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ত্রাণ সহায়তা প্রদান করা হবে।"
মন্তব্য করুন