মনপুরা প্রতিনিধি: ভোলার মনপুরা উপজেলায় বিএনপির একটি কার্যালয়ে জুয়ার আসর বসানোর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ভাইরাল হওয়া ভিডিওকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও সমালোচনার ঝড় উঠেছে।
ঘটনাটি উপজেলার উত্তর সাকুচিয়া ইউনিয়নের আনন্দবাজার এলাকায় অবস্থিত একটি কার্যালয়কে ঘিরে। কয়েকদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসনের নজরে আসে।
ঘটনার পর স্থানীয় সংসদ সদস্য মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম নয়ন থানা প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। তার নির্দেশনার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে অভিযান চালিয়ে বিতর্কিত কার্যালয়টি বন্ধ করে দেয়।
মনপুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাজহারুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, বিএনপির ব্যানার ও ফেস্টুন টাঙানো একটি কার্যালয়ের ভেতরে দুই দলে বিভক্ত হয়ে কয়েকজন ব্যক্তি জুয়া খেলছেন। একদল চেয়ার-টেবিলে বসে এবং অন্যদল মেঝেতে গোল হয়ে বসে খেলায় অংশ নিচ্ছেন। একপর্যায়ে টাকার হিসাব ও লেনদেন নিয়ে তাদের মধ্যে তর্ক-বিতর্কের ঘটনাও দেখা যায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলা শ্রমিক দলের যুগ্ম সম্পাদক শামসুদ্দিন, যিনি এলাকায় ‘কোবা শামসু’ নামে পরিচিত, ওই দোকানঘরটি ভাড়া নিয়ে কার্যালয় হিসেবে ব্যবহার শুরু করেন। তিনি সাবেক সংসদ সদস্য নাজিম উদ্দিন আলম গ্রুপের অনুসারী এবং উত্তর সাকুচিয়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা।
অভিযোগ রয়েছে, গত ঈদুল আজহার পর থেকে তার নেতৃত্বে ওই স্থানে নিয়মিত জুয়ার আসর বসত। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর পুলিশ কার্যালয়টি বন্ধ করে দিলে শামসুদ্দিন এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে চলে যান।
মনপুরা উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ও উত্তর সাকুচিয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ডা. কামাল উদ্দিন বলেন, “এটি বিএনপির কোনো আনুষ্ঠানিক দলীয় কার্যালয় নয়। শামসুদ্দিন ব্যক্তিগতভাবে ঘরটি ভাড়া নিয়ে সেখানে একটি ক্লাব পরিচালনা করছিলেন। পরবর্তীতে মাননীয় সংসদ সদস্যের হস্তক্ষেপে পুলিশ সেটি বন্ধ করে দিয়েছে।”
মনপুরা থানার ওসি মাজহারুল ইসলাম বলেন, “সংসদ সদস্যের নির্দেশনা পাওয়ার পরপরই পুলিশ গিয়ে কার্যালয়টি বন্ধ করে দিয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে অভিযান চলছে।”
তিনি আরও বলেন, “মাদক, জুয়া এবং যেকোনো ধরনের অসামাজিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে পুলিশ কঠোর অবস্থানে রয়েছে। জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত থাকবে।”
মন্তব্য করুন