মো. মেহেদী হাসান, মনপুরা:ভোলার মনপুরা উপজেলার চরকলাতলী ইউনিয়নে হাঁস চুরির অভিযোগকে কেন্দ্র করে বসতঘরে ঢুকে হামলা, মারধর, শ্লীলতাহানির চেষ্টা এবং নগদ টাকা লুটের অভিযোগ উঠেছে প্রতিবেশীদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মো. শাকিল মনপুরা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ৫ নম্বর চরকলাতলী ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে গত ৩ জুলাই সকাল সাড়ে ৯টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। আগের রাতে একটি হাঁস চুরির অভিযোগকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হলেও স্থানীয়দের হস্তক্ষেপে বিষয়টি মীমাংসা হয়।
পরদিন সকালে শাকিলের স্বজন আব্দুর রহিম মাছ ধরতে গেলে অভিযুক্ত রাকিব ও সোহেল তাকে ধাওয়া করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। প্রাণভয়ে তিনি শাকিলের বাড়িতে আশ্রয় নিলে অভিযুক্তরা সেখানে প্রবেশ করে তাকে মারধর শুরু করেন। বাধা দিতে গেলে পরিবারের অন্য সদস্যদেরও মারধর করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগীদের দাবি, শাকিলের স্ত্রী লিমা বেগমকে মারধরের পাশাপাশি শ্লীলতাহানির চেষ্টা করা হয়। তাকে রক্ষা করতে গেলে সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা ফাহিমাকেও মারধর করা হয়। এতে তার পেটে আঘাত লাগে। আহতদের মনপুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
এ ছাড়া হামলার সময় শাকিলের ঘরে ব্যবসার কাজে রাখা ১০ হাজার টাকা নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে।
ঘটনার সময় শাকিল বাজারে কর্মস্থলে ছিলেন। খবর পেয়ে তিনি বাড়িতে এসে আহতদের হাসপাতালে ভর্তি করেন এবং পরে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত রাকিবের বাবা কালাম বেপারী বলেন, “আমার বাসা থেকে আব্দুর রহিম পাঁচটি হাঁস চুরি করেছিল। পরে বিষয়টি স্থানীয়দের জানাই। পরদিন আমি হাঁসগুলো নিয়ে দোকানে গেলে ফিরে এসে শুনি, আমার ছেলে ওই বাড়িতে গিয়ে মারামারি করেছে। সে যা করেছে, তা অন্যায় করেছে।”
কলাতলী ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য শাহাবুদ্দিন মেম্বার বলেন, “বিষয়টি আমাকে জানানো হয়েছে। উভয় পক্ষকে স্থানীয়ভাবে মীমাংসার চেষ্টা করতে বলা হয়েছে।”
মনপুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাজহারুল ইসলাম বলেন, “মারামারির ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”