এইচ এম নোমান, শশিভূষণ: ভোলার চরফ্যাশনে বাবার লাশ দাফনকে কেন্দ্র করে ভাই-বোনদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় ১১ জনকে আসামি করে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। একই ঘটনায় থানায়ও একটি লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (২২ জুন) চরফ্যাশন সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মৃত আব্দুল জলিল পন্ডিতের চতুর্থ স্ত্রীর মেয়ে খাদিজা আক্তার স্মৃতি বাদী হয়ে মামলাটি করেন।
মামলায় মো. রুবেল, সফিকুল ইসলাম, খোকন, মো. আলম ও রুবেল মাহমুদসহ মোট ১১ জনকে আসামি করা হয়েছে। তারা বাদীর সৎ ভাই-বোন, তাদের স্বামী এবং ফুফাতো আত্মীয় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত ১৯ জুন ভোররাত ৩টার দিকে অসুস্থ হয়ে মারা যান আব্দুল জলিল পন্ডিত। মৃত্যুর পর তার দাফনের স্থান ও সম্পত্তি নিয়ে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে লাশ বাড়িতে রেখেই উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। পরে প্রশাসন ও স্থানীয়দের হস্তক্ষেপে জলিল পন্ডিতকে তার চতুর্থ স্ত্রী আনোয়ারা বেগমের বাড়ির আঙিনায় দাফন করা হয়।
জানা গেছে, আব্দুল জলিল পন্ডিত জীবদ্দশায় চারটি বিয়ে করেছিলেন। তার চার সংসারে মোট ১০ জন সন্তান রয়েছে। প্রথম ও দ্বিতীয় স্ত্রীকে তিনি ডিভোর্স দেন। পরবর্তীতে তৃতীয় ও চতুর্থ সংসারে বসবাস করছিলেন। মৃত্যুর সময় তিনি চতুর্থ স্ত্রী আনোয়ারা বেগমের সংসারেই ছিলেন।
নিহতের ছেলে মামুন অভিযোগ করেন, বাবার মৃত্যুর পর তাদের ন্যায্য সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। তিনি দাবি করেন, জীবদ্দশায় তাদের বাবা নিজ বাড়ির আঙিনায় দাফনের ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। সেই অনুযায়ী দাফন করা হলেও এখন কবর সরিয়ে ফেলার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এ আশঙ্কায় তারা রাত জেগে বাবার কবর পাহারা দিচ্ছেন বলেও জানান তিনি।
অন্যদিকে খাদিজা আক্তার স্মৃতি এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, জীবিত থাকতেই আব্দুল জলিল পন্ডিত সন্তানদের মধ্যে সম্পত্তি ভাগ করে দিয়েছিলেন। বর্তমানে যে সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ, তা তার মা আনোয়ারা বেগমের ক্রয়কৃত। তিনি অভিযোগ করেন, ওই সম্পত্তি দখলের উদ্দেশ্যে তার সৎ ভাই-বোনেরা তাদের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও মারধর করেছে।
কবর থেকে লাশ উত্তোলনের অভিযোগও অস্বীকার করেন খাদিজা। তিনি বলেন, পারিবারিক কবরস্থানে দাফনের ব্যবস্থা থাকলেও তার সৎ ভাই-বোনেরা জোরপূর্বক বাড়ির সামনে দাফন করেছেন।
এদিকে মামলার পাশাপাশি শশীভূষণ থানায়ও একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন খাদিজা আক্তার স্মৃতি।
শশীভূষণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফিরোজ আহমেদ বলেন, "এ ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
বর্তমানে বাবার কবর ও সম্পত্তিকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত প্রশাসনিক উদ্যোগে বিরোধের সমাধান না হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।
মন্তব্য করুন