মো. মেহেদী হাসান, মনপুরা: ভোলার মনপুরা উপজেলার ১ নম্বর মনপুরা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডে টানা অতিবৃষ্টির কারণে নির্মাণাধীন মেগা প্রকল্পের বেড়িবাঁধের বালু আশপাশের বসতঘরে ঢুকে পড়েছে। এতে অনেক পরিবারের ঘর, উঠান ও চলাচলের পথ বালুতে ভরে গিয়ে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ২০২৪ সালে ওই এলাকায় বেড়িবাঁধ নির্মাণকাজ শুরু হয়। প্রকল্পটির দায়িত্বে থাকা ওটিবিএলের অধীনে প্রথমে স্থানীয় ঠিকাদার কাজ শুরু করলেও পরে কাজের দায়িত্ব স্থানীয় বিএনপির এক প্রভাবশালী নেতার কাছে হস্তান্তর করা হয়। এরপর থেকে নির্মাণকাজে ধীরগতি, নিম্নমানের কাজ এবং বিভিন্ন অনিয়ম দেখা দেয় বলে অভিযোগ তাদের।
ভুক্তভোগীদের দাবি, নির্মাণস্থলের বালু সংরক্ষণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না থাকায় ভারী বৃষ্টিতে সেগুলো ধুয়ে আশপাশের বাড়িঘর ও ফসলি জমিতে জমা হচ্ছে। ফলে একদিকে বসতঘর ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, অন্যদিকে কৃষিজমিও নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এলাকাবাসী আরও জানান, দীর্ঘদিন ধরে প্রকল্পের কাজ শেষ না হওয়ায় তারা প্রত্যাশিত সুফল পাচ্ছেন না। বরং প্রতিনিয়ত নতুন নতুন দুর্ভোগের মুখোমুখি হচ্ছেন।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সাইট ম্যানেজার কবির বলেন, “মনপুরায় ৯০০ মিটার বেড়িবাঁধ নির্মাণকাজের দায়িত্ব আমাদের। স্থানীয় ঠিকাদার রাজিব চৌধুরী কাজটি গ্রহণ করলেও আর্থিক সমস্যার কারণে নির্ধারিত সময়ে শেষ করতে পারেননি। বৃষ্টি কমে গেলে বাড়িঘরে জমে থাকা বালু দ্রুত অপসারণ করা হবে।”
ভোলা পানি উন্নয়ন বিভাগ-২ (চরফ্যাশন)-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আসফাউদদৌলা জানান, অতিবৃষ্টির কারণে নির্মাণাধীন বেড়িবাঁধের কয়েকটি স্থানে ক্ষতি হয়েছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে দ্রুত এক্সকাভেটর দিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত অংশ মেরামতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি যেসব বাড়িঘর ও ফসলি জমিতে বালু জমেছে, সেখান থেকে বালু অপসারণ করে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয়দের দাবি, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা দ্রুত পরিদর্শন, ক্ষতিগ্রস্তদের দুর্ভোগ লাঘব এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়মের অভিযোগ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। এতে মনপুরাবাসী একটি টেকসই ও নিরাপদ বেড়িবাঁধের সুফল ভোগ করতে পারবেন।
মন্তব্য করুন