
চ্যানেল ভোলা : অণ্ডকোষে ব্যথা এমন একটি সমস্যা, যা যেকোনো বয়সের পুরুষের ক্ষেত্রেই দেখা দিতে পারে। হঠাৎ শুরু হওয়া এই ব্যথা কখনো সামান্য সংক্রমণের কারণে হলেও, অনেক সময় এটি গুরুতর রোগেরও লক্ষণ হতে পারে। চিকিৎসাবিজ্ঞানে অণ্ডকোষের প্রদাহকে অরকাইটিস (Orchitis) বলা হয়। এটি এক বা উভয় অণ্ডকোষে হতে পারে এবং সাধারণত ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণের কারণে দেখা দেয়। অনেক ক্ষেত্রে মূত্রনালির সংক্রমণ (ইউটিআই) বা যৌনবাহিত সংক্রমণ থেকেও এ সমস্যা হতে পারে।
অণ্ডকোষে ব্যথার পাশাপাশি ফোলাভাব, লালচে ভাব, জ্বর, প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া বা অস্বস্তির মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। হঠাৎ তীব্র ব্যথা শুরু হলে বা অণ্ডকোষ ফুলে গেলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি। কারণ কিছু ক্ষেত্রে তা জরুরি অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হতে পারে।
ঘরোয়া উপায়ে সাময়িক আরাম
অণ্ডকোষে ব্যথা হলে প্রথমেই বিশ্রাম নেওয়া, আঁটসাঁট অন্তর্বাস ব্যবহার করা এবং প্রয়োজন হলে পরিষ্কার কাপড়ে মোড়ানো ঠান্ডা সেঁক দেওয়া কিছুটা আরাম দিতে পারে। পাশাপাশি পর্যাপ্ত পানি পান ও স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়াও উপকারী।
অনেকেই বিভিন্ন ঘরোয়া উপায় অনুসরণ করে থাকেন। তবে এগুলোর কার্যকারিতা নিয়ে নির্ভরযোগ্য বৈজ্ঞানিক প্রমাণ সীমিত। তাই এগুলো চিকিৎসার বিকল্প নয়।
১. ক্র্যানবেরি জুস
যদি ব্যথার কারণ মূত্রনালির সংক্রমণ (ইউটিআই) হয়ে থাকে, তাহলে অনেকেই ক্র্যানবেরি জুস পান করার পরামর্শ দেন। প্রতিদিন এক গ্লাস করে কয়েকদিন পান করলে কিছু মানুষের ক্ষেত্রে আরাম মিলতে পারে বলে প্রচলিত ধারণা রয়েছে। তবে সংক্রমণ হলে প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসকের পরামর্শে ওষুধ গ্রহণ করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
২. হলুদ
হলুদে প্রাকৃতিক প্রদাহনাশক উপাদান রয়েছে। এক গ্লাস ঘোলের সঙ্গে এক চা চামচ হলুদ গুঁড়ো মিশিয়ে পান করলে শরীরের প্রদাহ কমাতে সহায়ক হতে পারে বলে অনেকের বিশ্বাস রয়েছে। তবে এটি চিকিৎসার বিকল্প নয়।
৩. পান পাতা ও মধু
লোকজ চিকিৎসায় পান পাতায় মধু মাখিয়ে ব্যথাযুক্ত স্থানে কিছু সময় লাগিয়ে রাখার প্রচলন রয়েছে। যদিও এ পদ্ধতির কার্যকারিতা বৈজ্ঞানিকভাবে নিশ্চিত নয়। ত্বকে অ্যালার্জি বা জ্বালাপোড়া হলে এটি ব্যবহার না করাই ভালো।
৪. অলিভ অয়েল
কিছু মানুষ অলিভ অয়েল, কালোজিরার তেল (নাইজেলা অয়েল) ও মাছের তেল মিশিয়ে হালকা মালিশ করে থাকেন। এতে ত্বক কিছুটা আর্দ্র থাকতে পারে, তবে সংক্রমণ বা অণ্ডকোষের প্রদাহ সেরে যায়—এমন প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
৫. রসুন
রসুনে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল উপাদান থাকলেও রসুনের রস, তিলের তেল, নিমপাতা ও পেট্রোলিয়াম জেলি মিশিয়ে অণ্ডকোষে লাগানোর নিরাপদ ও কার্যকর প্রমাণ নেই। বরং সংবেদনশীল ত্বকে জ্বালাপোড়া বা অ্যালার্জির ঝুঁকি থাকতে পারে।
৬. কর্পূর, মধু ও গ্লিসারিন
ডিমের সাদা অংশ, মধু, কর্পূর ও গ্লিসারিন মিশিয়ে প্রলেপ দেওয়ার কথাও লোকজ চিকিৎসায় প্রচলিত রয়েছে। তবে চিকিৎসকদের মতে, সংবেদনশীল স্থানে এ ধরনের মিশ্রণ ব্যবহার করার আগে সতর্ক থাকা উচিত, কারণ এতে ত্বকের ক্ষতি বা অ্যালার্জি হতে পারে।
কখন দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যাবেন?
নিচের যেকোনো লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে দ্রুত হাসপাতালে বা চিকিৎসকের শরণাপন্ন হোন—
হঠাৎ তীব্র অণ্ডকোষের ব্যথা শুরু হলে।
অণ্ডকোষ ফুলে গেলে বা লাল হয়ে গেলে।
জ্বর, বমি বা কাঁপুনি থাকলে।
প্রস্রাবে রক্ত বা তীব্র জ্বালাপোড়া হলে।
আঘাতের পর ব্যথা না কমলে।
ব্যথা ২৪–৪৮ ঘণ্টার বেশি স্থায়ী হলে।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ
অণ্ডকোষে ব্যথাকে কখনোই অবহেলা করা উচিত নয়। কারণ এর পেছনে সাধারণ সংক্রমণ যেমন থাকতে পারে, তেমনি অণ্ডকোষ মোচড়ানো (টেস্টিকুলার টর্শন) বা অন্য জটিল সমস্যাও থাকতে পারে। তাই ঘরোয়া উপায়ে সাময়িক আরাম মিললেও ব্যথা অব্যাহত থাকলে বা উপসর্গ বাড়লে অবশ্যই ইউরোলজি বা সার্জারি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। সঠিক সময়ে রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা গ্রহণ করলে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দ্রুত সুস্থ হওয়া সম্ভব।