
চ্যানেল ভোলা : ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির সাত দিনব্যাপী রাষ্ট্রীয় দাফন ও শোকানুষ্ঠান শুক্রবার শুরু হয়েছে। এ উপলক্ষে বিশ্বের ১০০টিরও বেশি দেশের প্রতিনিধি ইরানে পৌঁছেছেন বলে জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি।
শোকানুষ্ঠানে অংশ নেওয়া বিদেশি প্রতিনিধিদলের জন্য স্বতন্ত্রভাবে পবিত্র কোরআনের বিভিন্ন আয়াত তেলাওয়াত করা হয়। এর অংশ হিসেবে বাংলাদেশের প্রতিনিধি হয়ে জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম) উপস্থিত হলে তাদের উদ্দেশ্যে একটি নির্দিষ্ট কোরআনের আয়াত তেলাওয়াত করা হয়। বিষয়টি সামনে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও নানা ধরনের ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ শুরু হয়েছে।
শনিবার (৪ জুলাই) রাতে অনুসন্ধানী সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়ের এ বিষয়ে একটি ভিডিও ক্লিপ শেয়ার করে ফেসবুকে দাবি করেন, বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদলের জন্য ভিন্ন ভিন্ন কোরআনের আয়াত তেলাওয়াতের মাধ্যমে পৃথক বার্তা দেওয়া হয়েছে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একটি অংশ মত দিয়েছেন।
ফেসবুক পোস্টে তিনি লেখেন, খামেনির কফিনে শ্রদ্ধা নিবেদন ও জানাজায় অংশ নিতে বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদল উপস্থিত হলে তাদের সামনে পৃথক পৃথক আয়াত তেলাওয়াত করা হয়। বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ কফিনে শ্রদ্ধা জানাতে গেলে সূরা আল-আহযাবের ২৩ নম্বর (مِنَ الۡمُؤۡمِنِيۡنَ رِجَالٌ صَدَقُوۡا مَا عَاهَدُوا اللّٰهَ عَلَيۡهِۚ فَمِنۡهُمۡ مَّنۡ قَضٰى نَحۡبَهٗ وَمِنۡهُمۡ مَّنۡ يَّنۡتَظِرُ ۖ وَمَا بَدَّلُوۡا تَبۡدِيۡلًا ۙ) আয়াত তেলাওয়াত করা হয়।
অবিচল থাকা ঈমানদারদের একটি অংশ আল্লাহর দ্বীনের পথে চলতে গিয়ে শহীদ হবে এবং আরেকটি অংশ শাহাদাতের আকাঙ্ক্ষা নিয়ে সেই পথেই অটল থাকবে।
তিনি বলেন, যারা আল্লাহর জমিনে আল্লাহর দ্বীন, আল্লাহর বিধান ও আল্লাহর আইন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কাজ করেন, তারা শিরকমুক্ত, বিদআতমুক্ত, সন্ত্রাসমুক্ত, অপরাধমুক্ত, মাদকমুক্ত ও মানবিক সমাজ গঠনের জন্য চেষ্টা চালিয়ে যান। তাদের মধ্যে কেউ শহীদ হন, আবার কেউ সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নের প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখেন।
ড. খলিলুর রহমান মাদানী আরও বলেন, বাংলাদেশে ইসলামের জন্য কাজ করতে গিয়ে একটি বড় অংশ রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের শিকার হয়ে আল্লাহর কাছে চলে গেছেন। তিনি বলেন, ২০১৫ সালে রাবেতার এক আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবিরোধী সম্মেলনে বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা বাংলাদেশে তৎকালীন সময়ে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। এই আয়াত হয়তো সেই সময়ের ঘটনা নিয়েও আমাদের একটি বার্তা দিতে পারে।
আবার ইরানের সরকার বর্তমান একাই যুদ্ধে লড়েছেন। আগামীতে তারা বাংলাদেশকে তাদের সঙ্গে দেখার জন্য হয়তো একটি বার্তা দিতে আয়াতটি তারা নির্বাচন করতে পারেন। কারণ, যারা এক কালিমায় বিশ্বাসী মুসলমান, তারা বিশ্বের যেখানেই থাকুক না কেন, একই বিশ্বাসের অনুসারী। একদল ইতোমধ্যে শহীদ হয়েছেন এবং আরেকদল শাহাদাতের আকাঙ্ক্ষা নিয়ে সেই পথেই অটল থাকবেন।
তিনি বলেন, আমার মনে হয় ইরান প্রতিটি দেশের নিজ নিজ প্রেক্ষাপট বিবেচনায় একটি করে আয়াত তিলাওয়াত করেছে।