
চ্যানেল ভোলা: ডেঙ্গু রোগীর জ্বর কমে গেলেও সম্পূর্ণ সুস্থতা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত কোনো হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র না দেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে এডিস মশার লার্ভা ধ্বংসে নতুন প্রযুক্তি ব্যবহারের উদ্যোগ এবং চিকিৎসকদের জন্য দৈনিক চিকিৎসা প্রটোকল চালুর ঘোষণা দিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজের প্যাথলজি বিভাগে আধুনিক মাইক্রোস্কোপ ও ল্যাবরেটরি যন্ত্রপাতি হস্তান্তর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে গত দুই মাস ধরে সরকার জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করছে। চিকিৎসকদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে এবং ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
এডিস মশার লার্ভা নিয়ন্ত্রণে নতুন প্রযুক্তির বিষয়ে তিনি জানান, আগামী সাত দিনের মধ্যে বিশেষ ধরনের একটি মেডিকেল ট্যাবলেট সংগ্রহ করা হবে। জমে থাকা পানি, ডাবের খোসা, পুরোনো টায়ারসহ বিভিন্ন স্থানে এ ট্যাবলেট ব্যবহার করলে দ্রুত লার্ভা ধ্বংস করা সম্ভব হবে।
ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসায় বিশেষ সতর্কতার ওপর গুরুত্ব দিয়ে মন্ত্রী বলেন, প্লাজমা লিকেজের কারণে অনেক রোগীর মৃত্যু হয়। এ কারণে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সমন্বয়ে একটি দৈনিক চিকিৎসা (ডেইলি ট্রিটমেন্ট) প্রটোকল তৈরি করা হয়েছে, যা দেশের সব চিকিৎসকের মোবাইল ফোন ও ওয়েবসাইটে পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, দেশের মেডিকেল শিক্ষার কারিকুলাম আধুনিকায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। উন্নত বিশ্বের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নতুন কারিকুলাম প্রণয়নের কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে।
সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল বলেন, গত ১৭ বছরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ উন্নত বিশ্বের চিকিৎসা ব্যবস্থার সঙ্গে তাল মেলাতে কিছুটা পিছিয়ে ছিল। বিশেষ করে প্যাথলজি বিভাগে তিন বছর আগে একটি সরকারি মাইক্রোস্কোপ নষ্ট হওয়ার পর নতুন কোনো বরাদ্দ দেওয়া হয়নি।
তিনি জানান, নতুন হস্তান্তর করা আধুনিক মডেলের মাইক্রোস্কোপের মাধ্যমে এখন এক সিটিংয়েই আরও নিখুঁতভাবে ক্যান্সার শনাক্ত করা সম্ভব হবে, যা চিকিৎসাসেবায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি হাসপাতালের ডিআই (ড্রাগ অ্যান্ড ইকুইপমেন্ট) সরবরাহ ব্যবস্থার অনিয়ম দূর করতে দ্রুত টেন্ডার প্রক্রিয়া শুরু করারও ঘোষণা দেন তিনি।
অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য সচিব কামরুজ্জামান চৌধুরী, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস, স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাজমুল হোসেন, ঢাকা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মো. মাজহারুল শাহীন, উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মোসাররাত সুলতানাসহ স্বাস্থ্য বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।