
চ্যানেল ভোলা: চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলায় তীব্র
লোডশেডিং ও অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের কারণে ক্ষুব্ধ হয়ে পল্লী বিদ্যুতের
কর্মী মো. আব্দুল কাদেরকে তুলে নিয়ে মারধর ও আটকে রাখার অভিযোগ উঠেছে।
মঙ্গলবার
(২৩ জুন) উপজেলার চির্কা গ্রামে অবস্থিত পল্লী বিদ্যুতের উপকেন্দ্রে এ
ঘটনা ঘটে। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন ফরিদগঞ্জ থানার পুলিশ পরিদর্শক
(তদন্ত) আল আমিন।
স্থানীয়
বাসিন্দা ও অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, চাঁদপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২-এর
ফরিদগঞ্জ জোনাল কার্যালয়ের আওতাধীন চির্কা উপকেন্দ্রে গত মঙ্গলবার সকালে
লাইনম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন মো. ইব্রাহিম ও মো. আব্দুল কাদের।
সকাল সাড়ে ১০টার দিকে একদল যুবক উপকেন্দ্রে প্রবেশ করে প্রথমে ইব্রাহিমকে
মারধর করে। পরে তারা আব্দুল কাদেরকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে উত্তর ধানুয়া
গ্রামে আটকে রাখে।
ঘটনাটি
জানার পর পল্লী বিদ্যুতের সহকারী জেনারেল ম্যানেজার (ওঅ্যান্ডএম) মোহাম্মদ
নাজির উল্লাহ স্থানীয়দের সহায়তায় সমঝোতা বৈঠক করে লাইনম্যান আব্দুল
কাদেরকে উদ্ধার করেন।
লিখিত
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, হামলাকারীরা লাইনম্যান আব্দুল কাদেরকে মারধর
করার পাশাপাশি তার কাছে থাকা ২৩ হাজার ৫০০ টাকা লুট করে এবং তার মোবাইল
ফোনটি ভেঙে ফেলে। এই ঘটনায় ওই রাতেই পল্লী বিদ্যুতের ডেপুটি জেনারেল
ম্যানেজার (ডিজিএম) মো. সাইফুল আলম বাদী হয়ে ৪ জনের নাম উল্লেখ করে
ফরিদগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
স্থানীয়
বাসিন্দা মেহেদী হাসান মঞ্জু বলেন, ‘আমাদের এলাকায় পল্লী বিদ্যুতের তীব্র
লোডশেডিং চলছে। কোনো প্রকার নোটিশ ছাড়াই ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে না,
অথচ বিল আসছে অতিরিক্ত। বিদ্যুতের অভিযোগ কেন্দ্রে ফোন দিলে তারা সাধারণ
মানুষের সঙ্গে চরম খারাপ আচরণ করে। ঘটনার দিন স্থানীয় জনতা উপকেন্দ্রে গেলে
লাইনম্যান আব্দুল কাদের সবার সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে
স্থানীয়রা তাকে ধরে নিয়ে আসে। পরে এজিএম সাহেবের ফোনের পর আমরা স্থানীয়
কয়েকজন মিলে বসে বিষয়টি সমাধান করি।’
স্থানীয়
বাসিন্দা বিল্লাল হোসেন, আব্দুল আওয়াল, মিন্টু মিয়াসহ আরও অনেকেই জানান,
ঘন্টার পর ঘণ্টা লোড শেডিং হচ্ছে কিন্তু পূর্বের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি বিল
আসছে। পল্লী বিদ্যুৎ কার্যালয়ের কর্মকর্তা কর্মচারীদের কাছে সমাধানের জন্য
গেলে তারা খারাপ আচরণ করে। কয়েকদিন আগে পল্লী বিদ্যুতের ডিজিএম নারী
কেলেঙ্কারিতে এক নারীর সঙ্গে ধরা খেয়ে মুচলেকা দিয়ে মুক্তি পেয়েছে। তারা
সেবা দিতে আসেনি, এসেছে মানুষকে হয়রানি করতে।
স্থানীয়
ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান শাহ আলম শেখ বলেন, ‘পল্লী বিদ্যুৎ
সাম্প্রতিক সময়ে যে পরিমাণ লোডশেডিং ও অতিরিক্ত বিল করছে, তাতে সাধারণ
মানুষের ক্ষুব্ধ হওয়াটাই স্বাভাবিক। সমাধানের জন্য গেলে তারা কোনো কর্ণপাত
করে না। ওই লাইনম্যান আব্দুল কাদেরও স্থানীয়দের সঙ্গে বিভিন্ন সময়ে খারাপ
আচরণ করেছেন।’
এ
বিষয়ে জানতে চাইলে পল্লী বিদ্যুতের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার মো. সাইফুল
আলম বলেন, ‘ঘটনাটি নিয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়া হয়েছে। এর বাইরে আমার আর
কিছু বলার নেই।’
এ
ব্যাপারে ফরিদগঞ্জ থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আল আমিন বলেন, ‘পল্লী
বিদ্যুৎ কর্মীকে মারধর ও আটকে রাখার একটি লিখিত অভিযোগ আমরা পেয়েছি। বিষয়টি
তদন্ত করে অপরাধীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’