
চ্যানেল ভোলা: উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন বলেছেন, দেশের পারমাণবিক শক্তি দ্রুত সম্প্রসারণ করা এখন সরকারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত সিদ্ধান্ত। যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের সামরিক হুমকি মোকাবিলায় এ পদক্ষেপ প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।
সম্প্রতি এক বক্তব্যে কিম জং উন জানান, উত্তর কোরিয়া তার পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডার অস্বাভাবিক দ্রুত গতিতে বৃদ্ধি করবে। একই সঙ্গে দেশটির যুদ্ধজাহাজ ও নৌবাহিনীর সক্ষমতা বাড়াতে পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্র সংযোজনের পরিকল্পনাও রয়েছে।
কিম বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার ক্রমবর্ধমান সামরিক সহযোগিতা এবং যৌথ মহড়ার কারণে উত্তর কোরিয়ার নিরাপত্তা ঝুঁকি বেড়েছে। এ পরিস্থিতিতে জাতীয় প্রতিরক্ষা শক্তি আরও জোরদার করা ছাড়া তাদের সামনে অন্য কোনো বিকল্প নেই।
বিশ্লেষকদের মতে, উত্তর কোরিয়া বর্তমানে এমন একটি বিস্তৃত ও বহুমাত্রিক পারমাণবিক অবকাঠামো গড়ে তুলছে, যা সম্ভাব্য হামলার পরও কার্যকর থাকবে। তাদের ধারণা, দেশটি এমনভাবে অস্ত্রভাণ্ডার ছড়িয়ে দিচ্ছে যাতে একক কোনো হামলায় পুরো সক্ষমতা ধ্বংস করা সম্ভব না হয়।
নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলছেন, উত্তর কোরিয়া রেলপথ, সড়কপথ, সাবমেরিন এবং ভূগর্ভস্থ ঘাঁটির মাধ্যমে ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন ও পরিচালনার সক্ষমতা বাড়াচ্ছে। এর ফলে দেশটির পারমাণবিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরও জটিল ও কার্যকর হয়ে উঠছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সাম্প্রতিক ইরান সংকটও উত্তর কোরিয়ার কৌশলগত চিন্তায় প্রভাব ফেলেছে। তাদের বিশ্বাস, পারমাণবিক অস্ত্রবিহীন দেশগুলো বড় ধরনের সামরিক হামলার ঝুঁকিতে থাকে, যা উত্তর কোরিয়াকে তাদের অস্ত্র কর্মসূচি আরও জোরদার করতে উৎসাহিত করছে।
উত্তর কোরিয়া দাবি করেছে, তাদের পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডার জাতীয় নিরাপত্তার সবচেয়ে বড় গ্যারান্টি এবং ভবিষ্যতেও এ সক্ষমতা আরও সম্প্রসারণ করা হবে।