
এইচ এম নোমান, চরফ্যাশন প্রতিনিধি: জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা এবং উপকূলীয় প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে ভোলার চরফ্যাশনে বৃক্ষরোপণ ও বিনামূল্যে চারা বিতরণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ)-এর অর্থায়নে এবং পরিবার উন্নয়ন সংস্থা (এফডিএ)-এর বাস্তবায়নে পরিচালিত “বাংলাদেশের ঝুঁকিপূর্ণ উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর জন্য স্থিতিশীল বসতবাড়ি ও জীবিকা সহায়তা (আরএইচএল)” প্রকল্পের আওতায় এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
দুর্যোগপ্রবণ পাঁচটি ইউনিয়নে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে প্রায় ৫০০ উপকারভোগী পরিবার এবং বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের মাঝে ফলদ, বনজ ও ঔষধি গাছের পাঁচ প্রজাতির চারা বিনামূল্যে বিতরণ করা হয়।
চারা বিতরণ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে পরিবার উন্নয়ন সংস্থার (এফডিএ) সিনিয়র প্রোগ্রাম সমন্বয়কারী শংকর চন্দ্র দেবনাথ সভাপতিত্ব করেন। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চরফ্যাশন উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. মামুন হোসেন।
অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন এফডিএ’র কৃষিবিদ মো. মনিরুল ইসলাম। এ সময় বক্তব্য রাখেন আরএইচএল প্রকল্পের প্রজেক্ট ম্যানেজার মেহেদী আজম।
বক্তারা বলেন, উপকূলীয় অঞ্চলে ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস ও নদীভাঙন নিত্যদিনের বাস্তবতা। তাই লবণাক্ত মাটির উপযোগী মেহগনি, নারিকেল, নিম ও কদবেলের মতো গভীর ও শক্ত শেকড়যুক্ত গাছ পরিবেশ রক্ষার পাশাপাশি দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
তারা আরও বলেন, এসব গাছ একদিকে সবুজ বেষ্টনী হিসেবে কাজ করে বাতাসের তীব্রতা কমাবে, অন্যদিকে মাটিক্ষয় রোধ ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় সহায়তা করবে। পাশাপাশি ফলদ গাছগুলো ভবিষ্যতে উপকূলীয় দরিদ্র পরিবারের জন্য পুষ্টির চাহিদা পূরণ এবং বিকল্প আয়ের উৎস তৈরি করবে।
আয়োজকরা জানান, পরিবেশ সংরক্ষণে নতুন প্রজন্মকে উদ্বুদ্ধ করার লক্ষ্যেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে চারা বিতরণকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ছোটবেলা থেকেই পরিবেশবান্ধব কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করা গেলে ভবিষ্যতে জলবায়ু সচেতন নাগরিক গড়ে তোলা সম্ভব হবে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. মামুন হোসেন বলেন, “উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর জন্য এ ধরনের দীর্ঘমেয়াদি কর্মসূচি অত্যন্ত সময়োপযোগী। এটি শুধু পরিবেশ রক্ষাই নয়, মানুষের জীবন ও জীবিকাকে আরও টেকসই করতে সহায়তা করবে।”
সভাপতির বক্তব্যে শংকর চন্দ্র দেবনাথ বলেন, “আমাদের লক্ষ্য শুধু গাছ বিতরণ নয়; বরং উপকূলের ঝুঁকিপূর্ণ মানুষের বসতভিটাকে জলবায়ু সহনশীল করে গড়ে তোলা। বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে আমরা একটি নিরাপদ, সবুজ ও টেকসই ভবিষ্যৎ নির্মাণের চেষ্টা করছি।”
তিনি আরও বলেন, “প্রতিটি গাছের সঙ্গে জড়িয়ে আছে উপকূলের মানুষের টিকে থাকা, ঘুরে দাঁড়ানো এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে একটি সবুজ প্রতিরক্ষা বেষ্টনী গড়ে তোলার স্বপ্ন।”
সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেন, প্রকৃতিনির্ভর এ অভিযোজন উদ্যোগ ভবিষ্যতে উপকূলীয় অঞ্চলে জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে এবং দুর্যোগ মোকাবিলায় কার্যকর ভূমিকা রাখবে।