চ্যানেল ভোলাঃ কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সরকারি নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে টিকিট বিক্রির মাধ্যমে রোগীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। একইসঙ্গে চিকিৎসক অনুপস্থিতি ও এক্সরে সেবা ব্যাহত হওয়ার ঘটনাও সামনে এসেছে।
জানা গেছে, ৫০ শয্যাবিশিষ্ট রাজারহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিতে সরকারি নির্ধারিত ৩ টাকার পরিবর্তে রোগীদের কাছ থেকে ৫ টাকা করে নেওয়া হচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, হাসপাতালের টিকিট কাউন্টারে টিকিটের মূল্য তালিকা প্রদর্শন করা হয়নি। কাউন্টারে দায়িত্বরত বাবলী রায় ও সুজন কুমার রায় টিকিটের জন্য ৫ টাকা দাবি করেন। পরে ১০৭ ও ১০৯ নম্বর সিরিয়ালের দুটি টিকিট সংগ্রহ করলেও একইভাবে ৫ টাকা করে নেওয়া হয়।
অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রথমে টিকিটের মূল্য ৫ টাকা বলে দাবি করা হলেও সাংবাদিক পরিচয় জানার পর বাবলী রায় বলেন, তিনি কখনও ৫ টাকা নেন না। তবে তারা হাসপাতালের স্থায়ী কর্মচারী নন বলেও জানান।
হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা মেরিনা বেগম, আসমা বেগম, হালিমা বেগম, নূরী বেগম এবং কলেজছাত্রী সূচিসহ একাধিক রোগী একই অভিযোগ করেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, প্রতিদিন গড়ে ৪৫০ থেকে ৫০০ রোগী বহির্বিভাগে চিকিৎসা নেন। প্রতিটি টিকিটে অতিরিক্ত ২ টাকা আদায় করলে প্রতিদিন প্রায় ৯০০ থেকে ১ হাজার টাকা, মাসে ২৭ থেকে ৩০ হাজার টাকা এবং বছরে প্রায় সাড়ে ৩ লাখ টাকা অতিরিক্ত আদায়ের সুযোগ তৈরি হয়।
এদিকে ১০৭ নম্বর কক্ষে গিয়ে দায়িত্বরত চিকিৎসককে পাওয়া যায়নি। প্রায় ১৫ মিনিট অপেক্ষার পরও তিনি কক্ষে আসেননি। তখন কক্ষের বাইরে অন্তত ১০ জন রোগী চিকিৎসকের অপেক্ষায় ছিলেন।
অন্যদিকে হাসপাতালের এক্সরে বিভাগেও রোগীদের দীর্ঘ ভিড় দেখা যায়। তবে দুপুর ১২টা ১৮ মিনিটে দায়িত্বপ্রাপ্ত মেডিকেল টেকনোলজিস্ট নাজমুল ইসলামের উপস্থিতি পাওয়া যায়নি।
এক রোগীর স্বজন রনি অভিযোগ করে বলেন, এক্সরে মেশিনের ফিল্ম না থাকায় তাকে পরদিন আসতে বলা হয়েছে। সরকারি হাসপাতালে এসেও প্রয়োজনীয় সেবা পাওয়া যাচ্ছে না।
বিষয়টি নিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. আরিফুল ইসলাম বলেন, টিকিটে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার অভিযোগ গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হবে। তবে অতিরিক্ত আদায়কৃত অর্থ হাসপাতালের কোষাগারে জমা হচ্ছে কি না, সে বিষয়ে তিনি স্পষ্ট কোনো বক্তব্য দেননি।
এক্সরে সেবা ব্যাহত হওয়ার বিষয়ে তিনি জানান, ফিল্ম সংকটের কারণে সমস্যা তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি প্রায় ৮ লাখ টাকা বিদ্যুৎ বিল বকেয়া থাকায় মেশিন পরিচালনাও ব্যয়বহুল হয়ে পড়েছে।