
বগুড়ার সোনাতলায় মায়ের পরকীয়া প্রেমিকের সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থা দেখে ফেলায় পাঁচ বছর বয়সী নিজ সন্তান ইউসুফ আলীকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে রিনি বেগম (২৪) নামে এক নারীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত মাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি শিশুসন্তানকে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) শিশুটির সৎবাবা ও মাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করার পর মা রিনি বেগম পুলিশের কাছে এই দায় স্বীকার করেন।
এর আগে, নিখোঁজ হওয়ার চার দিনের মাথায় বুধবার (১৪ অক্টোবর) দুপুরে সোনাতলা উপজেলার বালুয়াহাট গ্রামের একটি ধানক্ষেত থেকে ইউসুফের ক্ষতবিক্ষত ও অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
সোনাতলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, শিশুটির মৃত্যুর ঘটনায় তার মাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি নিজের সন্তানকে হত্যার কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন।
পুলিশ ও জবানবন্দি সূত্রে জানা যায়, শিশু ইউসুফের মা রিনি বেগমের সঙ্গে তার প্রথম স্বামী পলাশ মিয়ার প্রায় দেড় বছর আগে বিচ্ছেদ হয়। পরে রিনি দ্বিতীয় বিয়ে করে সোনাতলার বড় বালুয়া এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস শুরু করেন। শিশু ইউসুফ মায়ের সঙ্গেই থাকত। দ্বিতীয় সংসারে থাকাকালে সজল নামের স্থানীয় এক যুবকের সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন রিনি। ওই যুবক মাঝেমধ্যেই তাদের বাসায় আসতেন।
গত ১০ অক্টোবর সজলের সঙ্গে রিনিকে আপত্তিকর অবস্থায় দেখে ফেলে শিশু ইউসুফ। বিষয়টি অন্য কারো কাছে ফাঁস হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় ওই রাতেই সজলকে সঙ্গে নিয়ে পাশের একটি বাগানে নিয়ে সন্তানকে হত্যা করেন রিনি। পরে মরদেহ গুম করার উদ্দেশ্যে পাশের একটি ধানক্ষেতে ফেলে রাখা হয়।
ঘটনা অন্যদিকে মোড় নিতে ইউসুফ নিখোঁজ হয়েছে মর্মে গত ১২ অক্টোবর সোনাতলা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরিও (জিডি) করেন রিনি। পরবর্তীতে ১৪ অক্টোবর স্থানীয়রা বাসার পাশের ধানক্ষেতে দুর্গন্ধ পেয়ে খোঁজাখুঁজি করে শিশুটির গলিত মরদেহ দেখতে পান এবং পুলিশে খবর দেন।
এ ঘটনায় নিহতের পিতা পলাশ মিয়া বাদী হয়ে রিনি বেগম ও তার পরকীয়া প্রেমিক সজলকে আসামি করে সোনাতলা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। অভিযুক্ত সজলের সম্পৃক্ততার বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।